প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদারীপুরের কালকিনিতে সরকারি বন্দোবস্ত পাওয়া জমি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে স্বামী-স্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে তাঁদের বসতঘরেও।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের আলীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন—আব্দুল হামিদ আকন (৫০) ও তাঁর স্ত্রী ঝুমকি বেগম (৪০)। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আব্দুল হামিদ আকনের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সরকারি আইনি প্রক্রিয়ায় বন্দোবস্ত পাওয়া ওই জমিতে বসবাস ও ভোগদখল করে আসছে। জমিটি নিয়ে স্থানীয় কবির খান, ফারুক মালত, নজরুল মালত, আমির হোসেন মৃধা, হাবি মালত ও হারুন মালতের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের লোকজন ওই জমিতে একটি মাদ্রাসা নির্মাণের কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে জমিটি দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন।
ঘটনার দিন বিকেলে জমির মিউটেশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিন পরিদর্শনে যান কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল আরেফীন। অভিযোগ রয়েছে, ইউএনও ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পরপরই কবির খান ও ফারুক মালতের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওই জমিতে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা চালায়।
এ সময় আব্দুল হামিদ আকন ও তাঁর স্ত্রী ঝুমকি বেগম বাধা দিলে তাঁদের ওপর হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। হামলায় তাঁরা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। একই সময় তাঁদের বসতঘরেও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্দুল হামিদ আকন বলেন, “সরকার সব আইনি প্রক্রিয়া মেনে আমাদের নামে জমি বন্দোবস্ত দিয়েছে। কিন্তু প্রতিপক্ষ গায়ের জোরে আমাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করতে চাইছে। আমাদের হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও জীবনের নিরাপত্তা চাই।”
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে হাবি মালত মুঠোফোনে বলেন, “গতকাল ইউএনও স্যার এসেছিলেন। তিনি চলে যাওয়ার পর মহিলাদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না।”
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ-উল আরেফীন বলেন, “ওই জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। হামিদ আকন নামে একজন মিউটেশনের জন্য আবেদন করেছেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমি সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। বৃহস্পতিবার ছিল আমার শেষ কর্মদিবস। বদলির কারণে আমি চলে আসার পর সেখানে ঝামেলা হয়েছে বলে শুনেছি। খবর পাওয়ার পর পুলিশ পাঠিয়েছি। পরে তাঁরা থানায় অভিযোগ করেছেন কি না, তা আমার জানা নেই।”
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘটিত এ হামলার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন