প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে করা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এর মেয়াদ শেষ হওয়ায় পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) এই চুক্তির মেয়াদ সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, তারা এই চুক্তির মেয়াদ আর বাড়াতে আগ্রহী নয়। বরঞ্চ, তিনি ইরানকে ‘সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ’ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির ওপর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে গত জুনে স্বাক্ষর করা সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ সোমবার শেষ হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘গুরুতর’ লঙ্ঘনের কারণে নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা এখন আর কার্যকর নেই। তিনি উল্লেখ করেছেন, ইরানের ওপর হামলা হলে তাদের বাহিনী জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে, ট্রাম্প সোমবার বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে করা কাঠামোগত সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী নয়। এই সমঝোতা পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হয়েছিল। ইরানের সঙ্গে ওই সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোর প্রচেষ্টার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘না’।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানাচ্ছে, ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা শেষ হলেও এখনও কোনও পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হয়নি। জুনে করা সমঝোতায় বৃহত্তর একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। ট্রাম্প যখন সাংবাদিকদের কাছে প্রশ্ন করেছিলেন, দুই দেশ চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে কি না, তিনি বলেছিলেন, ইরান আলোচনা করতে চায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের চুক্তি চায়, সেজন্য তেহরান রাজি নয়।
ট্রাম্প আরও বলেছেন, ‘তারা (ইরান) চুক্তি করতে চায়। কিন্তু আমি যে ধরনের চুক্তিকে প্রয়োজনীয় মনে করি, তারা সেই ধরনের চুক্তি করবে না’। তিনি আবারও স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকার সুযোগ নেই। ট্রাম্পের দাবি, ‘আমরা সেখানে একটি কারণে আছি—ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। আপনারা বুঝতে পারছেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না এবং তাদের তা থাকবেও না।’
সম্প্রতি ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার কথা বলেছিলেন। এ বিষয়ে ফের প্রশ্ন করা হলে তিনি নিজের বক্তব্যের পক্ষে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেন। তার বক্তব্য হলো, ‘আমার মনে হয়, এটি দারুণ একটি ধারণা’। তিনি জানান, নৌ অবরোধের মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এটি নিয়ন্ত্রণ করছি। নৌ অবরোধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করছি। আমাদের অবরোধ রয়েছে এবং এর মাধ্যমেই আমরা প্রণালিটি নিয়ন্ত্রণ করছি। এটিকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণা করার ধারণাটি আমার কাছে আকর্ষণীয়।’
ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান কিছুটা সমস্যা তৈরি করার সক্ষমতা রাখে। ট্রাম্প বলেন, মার্কিন নৌ অবরোধটি অত্যন্ত কার্যকর এই অঞ্চলে।
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগের ফলে প্রতি সপ্তাহে ওই অঞ্চল দিয়ে লাখ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে। তিনি বললেন, ‘আমরা প্রতি সপ্তাহে হয়তো লাখ লাখ ব্যারেল তেল বের করে আনছি। হয়তো এটি বন্ধ হয়ে যাবে, অথবা আরও বেশি উন্মুক্ত হয়ে যাবে।’
ট্রাম্প বলেন, ‘প্রণালিটি খোলা আছে, তেলের দাম কমছে এবং আরও কমতে থাকবে—যদি না আমরা এখনকার চেয়ে অনেক বেশি কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেই।’ তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, ইরান বর্তমানে ‘বড় সমস্যার মধ্যে’ রয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন