প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৭ জুন, ২০২৬ : শুক্রবার মার্কিন বাহিনী তেহরানকে দায়ী করে একটি মালবাহী জাহাজে হামলার জন্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এই হামলা শুক্রবারই করা হয়।
এটি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সম্পর্কিত কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে নতুন করে নাজুক যুদ্ধবিরতি চাপে পড়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি ওয়াশিংটন থেকে এ খবর জানায়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানি বাহিনীর 'বাণিজ্যিক জাহাজে চালানো অন্যায্য আগ্রাসনের' প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলা হয়েছে।
তাদের দাবি, তেহরানের এই হামলা 'স্পষ্টভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে'।
সর্বশেষ মার্কিন অভিযানকে গতকাল হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় একটি বাণিজ্যিক জাহাজে চালানো হামলার শক্তিশালী জবাব বলেও উল্লেখ করেছে তারা।
শুক্রবার গভীর রাতে দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরের নগরী সিরিকের একজন প্রতিবেদকের বরাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, তাহেরুয়েহ জেটিতে একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
নির্ভরযোগ্য সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ওই এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এই বিস্ফোরণ ঘটে।
এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই মালবাহী জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, 'অবশ্যই এটি আমাদের যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন।'
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইল হামলা শুরু হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের একটি চূড়ান্ত সমাধানের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরান আলোচনা চালাচ্ছে এবং ঠিক তখনই এই হামলার ঘটনা ঘটল। এর ফলে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার প্রচেষ্টা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উপস্থিত হয়েছে।
ইরান সতর্ক করে বলেছে, অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ যেন হরমুজ প্রণালী দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ বা বের না হয়। তবে এই হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে এবং কিছু জাহাজ তেহরানের অনুমোদনহীন রুট ব্যবহার করছে।
কেপলার ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মের রিপোর্ট অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার এই প্রণালী পার করা ৪২টি জাহাজের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ওমান উপকূলের অনুমোদনহীন দক্ষিণ রুট ব্যবহার করেছে।
জাতিসংঘের সামুদ্রিক সংস্থা জানায়, এই বিরোধের কারণে আটকে পড়া ১১৫টি জাহাজ ও ২ হাজার ৫০০ জন নাবিককে উদ্ধারের জন্য একটি সফল অভিযান চলছিল। কিন্তু হামলার পর উদ্ধার অভিযান স্থগিত রাখতে বাধ্য হতে হয়েছে।
তা সত্ত্বেও তেলের দাম ব্যাপকভাবে কমেছে। বর্তমান উত্তেজনার মাঝেও এই কৌশলগত প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য হ্রাসে ভূমিকা রেখেছে। সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন