প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢাকা পূর্বাঞ্চলীয় কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযান ঘিরে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযান চলাকালে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কাস্টমস কর্মকর্তাদের মিষ্টি, দুধ ও পানির বোতল দিয়ে আপ্যায়ন করা হলেও অভিযান শেষে কী ধরনের অনিয়ম বা অসংগতি পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভৈরব বাজারের জে আই ইমপ্রেক্স প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ঢাকা পূর্বাঞ্চলীয় কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের যুগ্ম কমিশনার রাবেয়া খাতুনের নেতৃত্বে একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।
অভিযানের খবর পেয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় সাংবাদিকরা অভিযান পরিচালনার কারণ এবং প্রতিষ্ঠানে কোনো অনিয়ম বা অসংগতি পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে যুগ্ম কমিশনার রাবেয়া খাতুন বলেন, অভিযান শেষে এ বিষয়ে জানানো হবে।
তবে অভিযান চলাকালে জে আই ইমপ্রেক্সের পক্ষ থেকে কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তাদের মিষ্টি, দুধ ও পানির বোতল দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে অভিযান ও তল্লাশি কার্যক্রম চলার পর কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন নথিপত্র এবং কিছু মালামাল জব্দ করেন। পরে জব্দকৃত নথি ও মালামাল কাস্টমস বিভাগের গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়।
অভিযান শেষে সাংবাদিকরা আবারও কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান, প্রতিষ্ঠানে কী ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেছে, কী কী নথি ও মালামাল জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে।
তবে এসব প্রশ্নের বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে অভিযান পরিচালনাকারী দলের নেতৃত্বে থাকা যুগ্ম কমিশনার রাবেয়া খাতুন সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে দ্রুত গাড়িতে ওঠেন। পরে কাস্টমসের পুরো দল ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
সরকারি রাজস্ব আদায়কারী একটি সংস্থার অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কর্মকর্তাদের আপ্যায়ন এবং অভিযান শেষে নথিপত্র ও মালামাল জব্দ করে কর্মকর্তাদের দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগের বিষয়টি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তবে আপ্যায়নের সঙ্গে অভিযান পরিচালনা বা জব্দ কার্যক্রমের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, প্রায় দুই ঘণ্টার অভিযানে কাস্টমস কর্মকর্তারা আসলে কী পেয়েছেন?
কোন নথিতে অসংগতি পাওয়া গেছে, কী ধরনের মালামাল জব্দ করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি বা শুল্ক-ভ্যাট সংক্রান্ত কোনো অনিয়মের তথ্য রয়েছে কি না এবং পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযান সম্পর্কে জে আই ইমপ্রেক্সের মালিকপক্ষের প্রতিনিধি শুভ জয় গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, কাস্টমস ও এক্সাইজ বিভাগের কর্মকর্তারা যেভাবে অভিযান পরিচালনা করেছেন এবং যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাতে তারা ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
তিনি বলেন, অভিযানের কারণে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে এবং এতে তাদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
সরকারি কোনো সংস্থার অভিযানের ক্ষেত্রে কী কারণে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, কী পাওয়া গেছে, কী জব্দ করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ কী হবে—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও জনসাধারণের জানার আগ্রহ ও অধিকার রয়েছে।
জে আই ইমপ্রেক্সে কাস্টমসের এ অভিযানেও একই প্রশ্ন সামনে এসেছে। অভিযানের শুরুতে ফলাফল জানানোর কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকদের প্রশ্নের সরাসরি ব্যাখ্যা না দিয়ে কর্মকর্তাদের দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করায় বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা আরও বেড়েছে।
এ ঘটনায় জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন উঠেছে—অভিযানের সুনির্দিষ্ট কারণ কী ছিল? কী কী নথি ও মালামাল জব্দ করা হয়েছে? প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কী ধরনের অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে? এবং অভিযানের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন বা পরবর্তী ব্যবস্থা সম্পর্কে জনসাধারণকে জানানো হবে কি না?
এসব প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর পাওয়া গেলে অভিযানের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও ফলাফল নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা অনেকটাই কাটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন