প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়নপুর বাজারে স্বর্ণ ব্যবসায়ী ওমর সরকার (৪৫) কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যার অপরাধে বিচারক আসামি জয় বিশ্বাস অনিক (২১) কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এ ছাড়া তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। অপর ধারায় জয় বিশ্বাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অপর আসামি হৃদয় সূত্রধর (২১) কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয়) মো. কামাল হোসাইন এ রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জয় বিশ্বাস মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার সুভারিয়া সরকার বাড়ির অর্জুন বিশ্বাসের ছেলে। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হৃদয় সূত্রধর মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়নপুর সারপাড় এলাকার গোপাল সূত্রধরের ছেলে।
হত্যার শিকার ব্যবসায়ী ওমর সরকার মতলব দক্ষিণ উপজেলার সারপাড় এলাকার শ্রী রবি ভক্তের ছেলে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী জানা যায়, ২০২২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টার পর হতে ২টার মধ্যে ওমর সরকার নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মাধবী শিল্পালয় থেকে বাড়িতে আসার পথে উভয় আসামি তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। ওই রাতেই ঘটনাটি আড়াল করার জন্য জয় বিশ্বাস অনিক নিজেই ওমর সরকারকে কে বা কারা হত্যা করেছে- এমন খবর তার বাবার কাছে পৌঁছে দেয়। তখন রবি ভক্ত ও তার বড় ছেলে জীবন কৃষ্ণ বাড়ি থেকে প্রায় ৮০ গজ দূরে দাস বাড়ির উঠানে তার রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনায় পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি মতলব দক্ষিণ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন ওমর সরকারের বাবা রবি ভক্ত। মামলা হওয়ার পর পুলিশ তদন্ত করে ঘটনায় জড়িত উল্লেখিত আসামি হৃদয়কে ২৩ ফেব্রুয়ারি এবং জয় বিশ্বাসকে ২৪ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন।
মামলাটির তদন্ত করেন তৎকালীন মতলব দক্ষিণ থানার এসআই মো: হাবিবুর রহমান। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১০ মে তিনি আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সালমা বেগম বলেন, মামলাটি চলমান অবস্থায় আদালত ২১ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন। স্বাক্ষ্যগ্রহণ, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা ও আসামিরা তাদের অপরাধ স্বীকার করায় বিচারক এ রায় দেন। রায়ের সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জয় বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন এবং অপর আসামি হৃদয় জামিনে গিয়ে পলাতক রয়েছেন।
আসামিপক্ষে সরকার নিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে ছিলেন অ্যাড. শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন