প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তিন দশকের মধ্যে বাংলাদেশের ১০টি বেসরকারি যাত্রীবাহী এয়ারলাইন্সের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। উচ্চ জ্বালানি ব্যয়, বিমানবন্দরে বেশি চার্জ এবং সরকারি সারচার্জের চাপের কারণে এসব প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারেনি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এভিয়েশন শিল্পের উন্নয়নে আসন্ন বাজেটে ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা অপরিহার্য।
জেট ফুয়েলের উচ্চ দাম, তুলনামূলক বেশি ল্যান্ডিং ও পার্কিং চার্জ এবং দীর্ঘকাল ধরে ৭২ শতাংশ সারচার্জ বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। ১৯৯৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই কারণগুলোর জন্য ১০টি বেসরকারি এয়ারলাইন্স তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে।
চলতি বছর শুরুতে সারচার্জ কিছুটা কমানো হলেও জ্বালানি ব্যয় এবং বিমানবন্দর চার্জ এখনও বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। বর্তমানে চারটি বেসরকারি এয়ারলাইন্স কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে, তাদের জন্যও বিভিন্ন ধরনের সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের এভিয়েশন শিল্পের প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য খাতসংশ্লিষ্টরা আসন্ন বাজেটে নীতিগত সহায়তার দাবী করছেন।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, যদি সরকার প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করে এবং খাতভিত্তিক ভর্তুকি বা সাবসিডি প্রদান করে, তবে ইউএস-বাংলাসহ অন্যান্য এয়ারলাইন্স আরও উন্নতি করতে সক্ষম হবে।
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে এভিয়েশন খাতের উন্নয়নের পরিকল্পনার ব্যাপারে কথা হলেও বাস্তবে অগ্রগতি সীমিত। তবে, বিএনপি সরকার এবার সেই অবস্থার পরিবর্তন করার চেষ্টা করছে। বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত উল্লেখ করেছেন, এভিয়েশন খাতকে লাভজনক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বাজেট অধিবেশনেই এর প্রতিফলন দেখা যাবে। এই মন্ত্রণালয়কে একটি রাজস্ব আয়কারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে এবং চলতি বছরে এভিয়েশন খাতে লাভের চিত্র দেখা যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হচ্ছে জ্বালানির যৌক্তিক মূল্য এবং কম সুদের ব্যাংক ঋণের সুবিধা। দ্যা বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম জানিয়েছেন, এয়ারলাইন্স শিল্প টিকিয়ে রাখার জন্য বর্তমান কর কাঠামো কমাতে এবং সহজে অর্থায়নের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ব্যাংক ঋণের সুদের হার ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ থাকায় এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য সময়মতো ঋণ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে প্রায় ৩৫টি বিদেশি এয়ারলাইন্স ফ্লাইট পরিচালনা করছে। কিন্তু দেশের এয়ারলাইন্সগুলোর সীমাবদ্ধতার কারণে এই খাতের একটি বড় অংশের অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন