প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্যিক বিরোধ ও মতপার্থক্য সমাধানের জন্য সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি উল্লেখ করেছেন, দুই পক্ষের জন্য অংশীদারত্বের সম্পর্ক বজায় রেখে সমান মর্যাদায় আলোচনা করে বিরোধ মেটানো উচিত। এর ফলে চীন-ইইউ সম্পর্কের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে না।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বেইজিংয়ে জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ারের সঙ্গে বৈঠকে শি জিনপিং এসব কথা বলেন। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির বরাত দিয়ে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানায়, শি বলেছেন, চীন সব সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নকে অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে এসেছে। দুই পক্ষের মধ্যে প্রতিযোগিতার তুলনায় সহযোগিতার ক্ষেত্রই বেশি।
চীনা প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, অংশীদারত্বের অবস্থানে অটল থেকে সমান ভিত্তিতে সংলাপ চালিয়ে গেলে মতপার্থক্য ও চ্যালেঞ্জের সমাধান সম্ভব। চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচিত অভিন্ন স্বার্থের জায়গাগুলো কাজে লাগিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়া।
বৈঠকে শি আরও বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চীন ও জার্মানির বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, চীনের উন্নয়ন ও দেশটির সঙ্গে সহযোগিতাকে জার্মানি ইতিবাচকভাবে দেখবে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেবে।
জবাবে স্টাইনমায়ার বলেন, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক মতপার্থক্য সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। এতে উভয় পক্ষই লাভবান হবে। তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি ও উন্নয়ন, মুক্ত বাণিজ্য এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়ম সমুন্নত রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি সংরক্ষণবাদী নীতির বিরোধিতা করেন।
চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে শিল্প খাতে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছে। ব্রাসেলসের অভিযোগ, চীনা পণ্যের ব্যাপক আমদানি ইউরোপের শিল্প খাতের জন্য প্রতিযোগিতার চাপ তৈরি করছে। অন্যদিকে, বেইজিংয়ের দাবি, দুই পক্ষের অর্থনীতি পরস্পরের পরিপূরক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত পারস্পরিক সুবিধা।
জার্মান প্রেসিডেন্টের চীন সফর এমন সময়ে হচ্ছে, যখন দেশটির সঙ্গে বেইজিংয়ের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে বার্লিনে নতুন করে আলোচনা চলছে। সফরের আগে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া এক ভাষণে স্টাইনমায়ার বলেছিলেন, চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে চায় না জার্মানি, তবে নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থও রক্ষা করতে হবে।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসও সম্প্রতি এশিয়া সফরে চীনের সঙ্গে সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্কচ্ছেদের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, সরবরাহব্যবস্থা, প্রযুক্তি ও কাঁচামালের ক্ষেত্রে একতরফা নির্ভরতা কমানো প্রয়োজন; তবে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা জার্মানির নিরাপত্তা বা সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে না।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুনও চীন, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনীতির পারস্পরিক পরিপূরকতার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মতপার্থক্য সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা জরুরি।
স্টাইনমায়ার ২৭ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চীন সফর করছেন। এটি প্রায় আট বছর পর তাঁর প্রথম চীন সফর। বেইজিংয়ের পাশাপাশি তিনি আনহুই প্রদেশের হেফেই শহরও সফর করেন। তথ্যসূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন