প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যশোর পৌরসভার পূর্ব বারান্দীপাড়া এলাকায় ৭৫ লাখ টাকা দেনমোহর নিয়ে বিয়েতে রাজি না হওয়ার কারণে এক যুবকের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে, ওই যুবকের ওপর হামলা, বাড়িতে ভাঙচুর এবং পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে যশোর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ তুলে ধরেন তামিম আবু উমামা। তিনি তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিচারের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তামিম জানান, তিনি যশোরের পূর্ব বারান্দীপাড়া মোল্লাপাড়া, ঢাকা রোড এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। শহরের পূর্ব বারান্দীপাড়া কদমতলা এলাকার আনোয়ার হোসেন, তার মেয়ে এবং তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা, অপপ্রচার, হামলা এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ করেন। তামিমের দাবি, এসব ঘটনার কারণে তাদের পারিবারিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
তামিমের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৫ মিনিটে অফিসে যাওয়ার পথে নীলগঞ্জ ভিসা অফিসের সামনে আনোয়ার হোসেনের লোকজন তার গাড়ির গতিরোধ করেন। এ সময় তারা ভুক্তভোগীর ওপর হামলা চালিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। ঘটনার ভিডিও তার মুঠোফোন ও গাড়ির ড্যাশ ক্যামেরায় ধারণ করা আছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তামিম জানান, প্রায় আড়াই বছর আগে আনোয়ার হোসেনের মেয়ের সঙ্গে তার পারিবারিকভাবে বিয়ের আলোচনা হয়েছিল। তবে আনোয়ার হোসেন ৭৫ লাখ টাকা দেনমোহর দাবি করায় তারা বিয়ের প্রস্তাব থেকে সরে আসেন। এরপর থেকেই আনোয়ার হোসেন তাদের ওপর প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন এবং ধারাবাহিকভাবে হয়রানি শুরু করেন।
তামিমের ভাষ্য, গত আড়াই বছরে তার বিরুদ্ধে ৬টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি মামলা আদালতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বাকি মামলাগুলোও মিথ্যা প্রমাণিত হবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় আনোয়ার হোসেন ও তার লোকজন তাদের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি বাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ক্ষতিসাধন করা হয়। তখন কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিকও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংবাদ সম্মেলনে তামিম যশোর সদর থানায় করা একটি মামলার উল্লেখ করেন। তার দাবি, ২০২৫ সালের ২৯ জুন দায়ের করা ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া তাদের করা একটি মানহানির মামলা তুলে নিতে এক প্রভাবশালী আত্মীয় পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তামিম। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, যে কোনো সময় তার ও পরিবারের সদস্যদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা হতে পারে।
তামিম স্থানীয় প্রশাসনের কাছে হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একইসঙ্গে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনিব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ভুক্তভোগীর এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন