প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে নিরাপদ সড়ক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাসহ চার দফা দাবিতে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন প্রায় পৌনে তিন ঘণ্টা সময় ধরে।
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন দপদপিয়া সেতুতে বিআরটিসির একটি বাসের সঙ্গে থ্রি-হুইলারের সংঘর্ষের ফলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। আহত শিক্ষার্থী হওয়ার প্রতিবাদে রাত ৮টা থেকে তারা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে শুরু করেন। বিছিন্নভাবে রাত পৌনে ১০টার দিকে অবরোধ তুলে নিতে বাধ্য হন তাঁরা।
এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর পুলিশের বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা প্রেরণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এ দুর্ঘটনায় থ্রি-হুইলারে থাকা একজন যাত্রী নিহত এবং আরো চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাসহ নানা দাবিতে চার দফা দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলো হলো: ১. আহত শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাতের চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে। ২. আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মহাসড়ক মেরামত করতে হবে। ৩. বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রূপাতলী পর্যন্ত সার্বক্ষণিক বাসের ব্যবস্থা করতে হবে। ৪. বিশ্ববিদ্যালয়ের সুরক্ষার স্বার্থে ক্যাম্পাসের উভয় পাশে ফুটপাত নির্মাণ ও চালু করতে হবে।
আন্দোলনরত বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রাজিব বলেন, "যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের সব দাবি মেনে নেওয়া না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আমরা দ্রুত এই দাবিগুলোর বাস্তবায়ন চাই।"
অন্য একটি শিক্ষার্থী ভূমিকা সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, "আমরা এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে রাস্তা মেরামতসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়েছি, কিন্তু তা পূরণ করা হয়নি। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস হলো রক্ত না ঝরা পর্যন্ত কোনো দাবি পূরণ হয় না। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার সমস্ত খরচ প্রশাসনকেই নিতে হবে।"
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. গাজী মো. সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন, "শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তাদের সব যৌক্তিক দাবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যত দ্রুত সম্ভব মেনে নেবে। আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাগুলোর সমাধানের ব্যবস্থা করছি।"
তবে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি পূরণ না হলে আগামী সোমবার একই কর্মসূচি চলতে থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন