প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে আনতে সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের একটি প্যারা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক একই সঙ্গে জানিয়েছেন আগামী এক মাসের মধ্যে আরও ২০০ জন ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নয়, বরং দেশের জন্য সম্ভাবনাময় সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। বৃহস্পতি (৬ আগস্ট) সকালে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে এশিয়ান প্যারা গেমস ট্রেনিং ক্যাম্প-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি জাতীয় পর্যায়ের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতা আয়োজনের নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী নিজেই সেই প্রতিযোগিতার উদ্বোধনে উপস্থিত থাকবেন। তিনি জানান, ‘যে সন্তানকে অনেক পরিবার লজ্জার কারণে আড়ালে রাখে, সেই সন্তানই একদিন অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস বা প্যারা গেমসে বাংলাদেশের জন্য পদক এনে দিতে পারে। তাই তাদের নিয়ে লজ্জা নয়, গর্ব করার সময় এসেছে।’
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ৩০০ জন ক্রীড়াবিদ নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা পাচ্ছেন এবং আগামী এক মাসের মধ্যে আরও ২০০ জনকে এই কর্মসূচির আওতায় এনে মোট ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে ভাতা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক বা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনকারী নতুন ক্রীড়াবিদদেরও পর্যায়ক্রমে ক্রীড়া ভাতার অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
আমিনুল হক জানান, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের শুধু প্রতিযোগিতার আগে নয়, বরং সারা বছর নিয়মিত প্রশিক্ষণের আওতায় রাখতে হবে। তাদের আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তুলতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, সুযোগ-সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, মিরপুর স্টেডিয়াম এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ স্পোর্টস হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে এবং পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, রাজধানীকেন্দ্রিক কার্যক্রমের বাইরে দেশে ৬৪ জেলায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের খুঁজে বের করে তাদের নিয়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। এ লক্ষ্যে ‘নতুন কুঁড়ি প্যারা স্পোর্টস’ নামে জাতীয় পর্যায়ের একটি প্রতিভা অন্বেষণমূলক প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে। আমাদের একটাই প্রত্যাশা—আপনারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য পদক এনে দেবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন