প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকার মহাখালী এলাকায় স্বামীকে দ্বিতীয় বিয়ে করানোর কারণে হত্যা করে তাঁর মরদেহ ছয় টুকরো করার ঘটনায় স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার ১৬ তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নিপু এই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, মরদেহ গুমের দায়ে ফাতেমার ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে, পাশাপাশি অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম সাজা দেয়া হয়েছে। এই তথ্যটি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর খন্দকার শফি নেওয়াজ নাসির।
রায় ঘোষণা করার সময় ফাতেমাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণগুলো থেকে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৩০ মে রাতে সাড়ে ১০টার সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের আমতলী এলাকার নীল রঙের ড্রামের মধ্যে বনানী থানা-পুলিশ একজন পুরুষ ব্যক্তির মাথাবিহীন দেহ উদ্ধার করে। একই রাতে ১১টার পরে মহাখালী বাস টার্মিনালের এনা কাউন্টার এলাকায় একটি ব্যাগের ভেতর থেকে উরু থেকে খণ্ডিত দু’টি পা এবং কাঁধ থেকে খণ্ডিত দু’টি হাতের অংশ উদ্ধার করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা-পুলিশ।
মোট দুই দিনে আলাদা আলাদা স্থানে লাশের ছয় টুকরো উদ্ধার করা হয়।
শুধুমাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে ফাতেমা গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তারের পর আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
ফাতেমা পুলিশকে জানিয়েছেন, পারিবারিক কলহ, অর্থ-বণ্টন ও একাধিক বিয়ে নিয়ে ময়না মিয়া ওরফে শাকিলের সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্য হয়। এক পর্যায়ে ফাতেমা পরিকল্পনা করেন যে তিনি তাঁর অটোরিকশা চালক স্বামীকে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে নিস্তেজ করবেন এবং পরে তাঁকে জবাই করে লাশ ছয় টুকরো করবেন। একটি লাল কাপড়ের ব্যাগে মাথা এবং শরীরের মূল অংশকে একটি নীল পানির ড্রামে এবং খণ্ডিত দুই পা ও দুই হাতকে একটি বড় কাপড়ের ব্যাগে রেখে দেন ফাতেমা। এরপর ১ হাজার ৩০০ টাকায় রিকশা ভাড়া করে প্রথমে আমতলী এলাকায় শরীরের মূল অংশ ফেলেন। পরে মহাখালী এনা বাস কাউন্টারের সামনে খণ্ডিত দুই হাত এবং দুই পা ভর্তি ব্যাগ রেখে বাসায় চলে যান। সেখান থেকে খণ্ডিত মাথা রাখা ব্যাগটি বনানী ১১ নম্বর ব্রিজের পূর্ব পাশ থেকে গুলশান লেকে ফেলে দেন এবং তারপর বাসায় ফিরে আসেন।
এই ঘটনার সাথে জড়িত ময়না মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন ১ জুন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা দায়ের করেন। ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর ফাতেমাকে অভিযুক্ত করে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০২৩ সালের ১২ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালতে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলতে থাকাকালীন আদালতে ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জন সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন