প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এইচ-১বি ভিসার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করা বিদেশি কর্মীদের ‘ইনডেনচার্ড সার্ভেন্টস বা চুক্তিবদ্ধ দাস’ হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়ে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তিনি এ প্রসঙ্গে তার ভারতীয় শ্বশুর-শাশুড়ির কথা উল্লেখ করে জানান, তিনি তাদের প্রতি গভীর ভালোবাসা অনুভব করেন।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) ভ্যান্স বলেন, ‘আমার বক্তব্যের ভাষা হয়তো যথাযথ ছিল না।’ তবে তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসননীতিতে এমন একটি ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন, যা বিদেশি কর্মীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এবং মার্কিন কর্মীদের স্বার্থও সুরক্ষিত রাখে।
হিন্দুস্তান টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভ্যান্সের স্ত্রী ঊষা ভ্যান্সের পরিবার দক্ষিণ ভারতে অবস্থিত। তার শ্বশুর-শাশুড়ি ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়ে এসেছিলেন। ভ্যান্স বলেন, ‘আপনারা জানেন, আমার পরিবারের শিকড় কোথায়। দক্ষিণ ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা আমার শাশুড়ি ও শ্বশুরকে আমি ভালোবাসি। তাঁদের মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি এখন দেশটির সেকেন্ড লেডি। আমি তাঁকে নিয়ে গর্বিত এবং তাঁকে অনেক ভালোবাসি।’
ভ্যান্স অভিবাসননীতিতে ভারসাম্যের পক্ষে তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে অবদান রাখতে আগ্রহী বিদেশি কর্মীদের স্বাগত জানানো উচিত। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগের যুক্তি দেখিয়ে আগে থেকেই কর্মরত মার্কিন নাগরিকদের চাকরি থেকে বাদ দিতে পারে না।
তিনি বলেন, ধরুন, এক ট্রিলিয়ন ডলারের কোনো প্রতিষ্ঠান দাবি করছে, তাদের বিদ্যমান কর্মী সমাজ থেকে একজন হিসাবরক্ষক নিয়োগ করা সম্ভব নয়। অথচ একই সময়ে তারা আগে থেকে কর্মরত একজন হিসাবরক্ষককে চাকরিচ্যুত করে। ভ্যান্সের মতে, এমন পরিস্থিতি ন্যায্য নয়।
ভ্যান্স আরো বলেন, এই ধরনের ব্যবস্থা অভিবাসী কর্মী ও মার্কিন কর্মী উভয়ের জন্যই ভালো নয়। তাই অভিবাসনব্যবস্থায় সঠিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চলতি মাসের শুরুতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম বা পিইআরএমের আওতায় আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিতের ঘোষণা দেয়। এর মধ্যে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে মাইক্রোসফট, কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), উইপ্রো, এইচসিএল ও ক্যাপজেমিনি।
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় পিইআরএম একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এর মাধ্যমে নিয়োগকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি বা অন্য ভিসায় কর্মরত বিদেশি কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের আবেদনে স্পনসর করতে পারেন।
এই কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়ার সময় ভ্যান্স মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো বেশি মার্কিন কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যে কাজ কোনো মার্কিন কর্মী করতে আগ্রহী, সেই কাজের জন্য বিদেশ থেকে ‘চুক্তিবদ্ধ দাস’ আমদানি বন্ধ করা উচিত।
ভ্যান্সের বক্তব্যের প্রতিবাদ ভারতের
বিদেশি পেশাজীবীদের ‘চুক্তিবদ্ধ দাস’ হিসেবে বর্ণনা করার ঘটনায় এর আগে প্রতিবাদ জানিয়েছিল ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মন্তব্যটিকে অযৌক্তিক ও গভীরভাবে আপত্তিকর বলে অভিহিত করে।
মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীরা উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ। দেশটির অর্থনীতি এবং উদ্ভাবন খাতে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাঁদের এভাবে বর্ণনা করা সেই অবদানকে উপেক্ষা করে।
ভারত আরও বলেছিল, টিসিএস ও ইনফোসিসের মতো ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের গ্রিন কার্ড-সংক্রান্ত আবেদন প্রক্রিয়ায় মার্কিন প্রশাসনের স্থগিতাদেশ দুই দেশের অভিন্ন লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এই বিতর্কে ভ্যান্সের সর্বশেষ বক্তব্যে বিদেশি কর্মীদের প্রতি সম্মান দেখানোর কথা বলা হলেও, মার্কিন কর্মীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে তাঁর অবস্থানেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মেলেনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন