প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর নীতিগত অবস্থান এবং শক্তিশালী ডলারের কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমে গেছে। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে এবং তেলের বাজারকে নিম্নমুখী করে ফেলেছে, যার পরিণতি স্বর্ণবাজারেও পড়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,২৪৬.৫৫ ডলারে অবস্থান নিয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে স্বর্ণের দাম ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছে গিয়েছিল।
একই সময়ে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ২.৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪,২৬৪.৩০ ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে।
জেনার মেটালসের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সিনিয়র মেটালস স্ট্র্যাটেজিস্ট পিটার গ্রান্ট মনে করেন, বাজারের জন্য প্রধানতম বিষয় ছিল ফেডের কঠোর নীতিগত অবস্থান। এই অবস্থানের কারণে বাজারে ডলারের মূল্য চলতি বছরে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা স্বর্ণের উপর চাপের সৃষ্টি করছে।
বুধবার ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও ১৯ জন নীতিনির্ধারকের মধ্যে নয়জন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে বছরের শেষে সুদের হার বৃদ্ধি করার প্রয়োজন হতে পারে।
ফেডের নীতি ঘোষণার পরে মার্কিন ডলার সূচক (ডিএক্সওয়াই) বেড়ে গিয়ে এক বছরের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। একই কারণে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য ডলারভিত্তিক স্বর্ণ কেনা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজার ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৮৫ শতাংশ হিসেবে ধারণা করছে। ফেডের নীতি ঘোষণার পূর্বে এটি ছিল ৬১ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণ একটি অ-ফলনশীল সম্পদ হওয়ার কারণে উচ্চ সুদের হারের পরিস্থিতিতে এর আকর্ষণ কমে যায়। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
এদিকে, বুধবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে দুই দেশের রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির খসড়া প্রকাশ হয়েছে। তবে একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছেন, ইরান যদি তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে, তাহলে তিনি আবারও হামলা শুরু করবেন এবং ইরানি কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করবেন।
যুদ্ধবিরতির খবরের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারেও তেলের দাম কমেছে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচার ২ মার্চের পরে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে, যা ছিল ইরানের ওপর প্রথম মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর প্রথম লেনদেন দিনের অবস্থান। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৪ মার্চের পর সর্বনিম্ন মাত্রায় রয়েছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মূল্যও কমেছে। স্পট মার্কেটে রোপার দাম ১.৮ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৬৬.৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ০.৯ শতাংশ কমে ১,৭১৮.২৭ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২.১ শতাংশ কমে ১,২৮৫.১০ ডলারে নেমে এসেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন