প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় জুটি মৌসুমী ও ওমর সানীর সম্পর্কের কাহিনী তিন দশক পেরিয়ে আজও দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রেম, বিয়ে, সংসার, সন্তান এবং অভিমান—বিভিন্ন সময়ে তাঁদের নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা ও বিচ্ছেদের গুঞ্জন সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। তবে দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে একসঙ্গে আছেন এই তারকা দম্পতি।
১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ মৌসুমী ও ওমর সানী গোপনে বিয়ে করেন। বিয়ের দেড় বছর পর ২ আগস্ট তাঁদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। সম্প্রতি, দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে, মৌসুমীর প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন ওমর সানী।
দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে মাঝে মাঝে বিচ্ছেদের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। এই বিষয়ে মৌসুমীর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ওমর সানী বলেন, “আমি তো মানুষ, আমার ভুল হতেই পারে। মৌসুমীও তা-ই। ওরও ভুল হতে পারে। এ রকম আমরা সবাই মানুষ। সমস্যা হয় যখন এসব নিয়ে অতিমাত্রায় লেখালেখি হয়।”
এ ধরনের খবর সামনে এলে মৌসুমী তাঁকে কী বলেন, সেটিও জানিয়েছেন সানী। তাঁর ভাষায়, “ওদের হয়তোবা এসব বলে কিংবা লিখে সংসার চলে। হয়তোবা দুইটা পয়সার কারণে চাল-ডাল কিনে খায়।”
তবে সব আলোচনা ও সমালোচনার বাইরে, স্ত্রীকে নিয়ে নিজের অনুভূতি স্পষ্ট করেছেন ওমর সানী। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “এই বয়সেও এসে আমি বলব, ফারদীন-ফাইজার আম্মু তোমাকে ভালোবাসি।”
দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বিশ্বাস ও ত্যাগকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন এই অভিনেতা। তিনি বলেন, “আসলে হয় কি, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা হচ্ছে একজন আরেকজনকে বিশ্বাস করা, স্যাক্রিফাইজ করা। সেটা আমাদের মধ্যে আছে।”
মৌসুমীর কোন বিষয়টি তাঁকে এখনো সবচেয়ে বেশি টানে—এমন প্রশ্নের জবাবে গণমাধ্যমে ওমর সানী বলেন, “মৌসুমীর কেয়ারিং এবং ওর জিদটাও আমাকে ভীষণ টানে। ও একটা কথা অনেক জমাট করে রাখতে পারে, আমি পারি না। আমার একটু ধৈর্য কম, ওর একটু বেশি আছে।”
তবে স্ত্রী হিসেবে মৌসুমীর সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁর কাছে সন্তানদের মা হিসেবে।
সানী-মৌসুমীর সম্পর্কের শুরুটা খুব সহজ ছিল না। তাঁদের প্রথম দেখা হয়েছিল ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মহরত অনুষ্ঠানে। পরে পরিচালক শেখ নজরুল ইসলাম একটি ছবির প্রস্তাব নিয়ে ওমর সানীকে সঙ্গে করে মৌসুমীদের ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসায় নিয়ে যান। সেখানেই প্রথম কথা হয় তাঁদের। তবে অন্য ছবির ব্যস্ততার কারণে মৌসুমী সেই প্রস্তাবে রাজি হতে পারেননি। মন খারাপ নিয়ে সেদিন ফিরেছিলেন ওমর সানী।
১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তির পর কয়েকজন প্রযোজকের উদ্যোগে ‘দোলা’ ছবিতে প্রথমবার জুটি বাঁধেন মৌসুমী ও ওমর সানী।
সিলেটে ছবিটির শুটিংয়ের সময় তাঁদের মধ্যে মনোমালিন্যও হয়েছিল। তবে সেই দূরত্ব একসময় ভালো লাগায় রূপ নেয়। মৌসুমীর ব্যক্তিত্ব, পরিবারের আন্তরিকতা ও তাঁর আচরণ মুগ্ধ করে ওমর সানীকে।
এরপর ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ দুই পরিবারের কাছের মানুষ এবং দুজনের ঘনিষ্ঠ দুই চলচ্চিত্র পরিচালকের উপস্থিতিতে চুপিসারে বিয়ে করেন তাঁরা।
বিয়ের দেড় বছর পর ২ আগস্ট আয়োজন করা হয় তাঁদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা। এরপর পেরিয়ে গেছে তিন দশকেরও বেশি সময়। নানা গুঞ্জন, অভিমান ও আলোচনার মধ্যেও সেই সম্পর্ক আজও টিকে আছে একই ছাদের নিচে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন