প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের প্রতাপ বিহারে একটি মেডিকেল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা হিসেবে মনে হচ্ছে, তবে ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আগামী রোববার (২১ জুন) ভারতে নতুন করে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (এনইইটি) অনুষ্ঠিত হবে। গত মে মাসে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে এই পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। মাত্র দুদিন আগে, গত শুক্রবার (১৯ জুন), ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘটে।
মৃত শিক্ষার্থীর পরিচয় হচ্ছে যতিন কুমার। তিনি বিজয়নগরের এইচ-ব্লকে থাকতেন এবং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত তিনি নিজের ঘরে পড়াশোনা করছিলেন এবং ঘরের মধ্যে হাঁটাহাঁটি করছিলেন।
তবে শুক্রবার সকালে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে ডাকতে গিয়ে তার নিথর দেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে বিজয়নগর থানার পুলিশ ও ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ জানায়, ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে বাঁধা একটি ছেঁড়া ফাঁস পাওয়া যায় এবং মরদেহটি মেঝেতে পড়ে ছিল।
তদন্তের সময় যতিনের মোবাইল ফোন থেকে ১ মিনিট ৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পাওয়া যায়, যা মৃত্যুর ঠিক আগে ধারণ করা হয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। এ ভিডিওতে তিনি নিজের পড়ার ঘর দেখান এবং বলেন, ‘আজ আমি ভিন্ন কিছু করার কথা ভাবছি।’ এরপর তিনি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা ফাঁসের দিকেও ক্যামেরা ঘুরিয়ে দেখান।
পুলিশের দাবি, ভিডিওতে যতিন উল্লেখ করেছেন যে তিনি কোনও চাপের মধ্যে ছিলেন না এবং এনইইটি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে মানসিক চাপে ভুগছিলেন না। তিনি আরও বলেন, তার বাবা তাকে পরীক্ষার বিষয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
ভিডিওতে যতিন বলছেন, তিনি পরীক্ষায় সফল হতে চেয়েছিলেন এবং যদি সফল হন, তাহলে মানুষ এই ভিডিওটি দেখবে। এরপরই ভিডিওটি শেষ হয়ে যায়। বর্তমানে পুলিশ ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
যতিন ছিলেন পরিবারের একমাত্র সন্তান। তার বাবা একটি সরকারি বিভাগে কর্মরত এবং মা গৃহিণী। আকস্মিক এই ঘটনায় পরিবার গভীর শোকাহত। তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
কোতওয়ালি নগরের সহকারী পুলিশ কমিশনার উপাসনা পাণ্ডে জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীর তৈরি করা ভিডিওটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন