প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদার করার প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। ইউরোপ, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং এশিয়ার ফুটবল সংস্থাগুলোর বিরোধিতার মধ্যেই পদত্যাগ করেছেন ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো।
সাবেক যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কর্দেইরো এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের অংশীদারিত্ব বিক্রির পরিকল্পনা প্রণয়নে তার কোনো ভূমিকা ছিল না এবং তিনি এই প্রস্তাবের সম্পূর্ণ বিরোধী। তার বক্তব্যে, এটি সদস্য দেশগুলোর জন্য, ফুটবলের জন্য এবং দীর্ঘমেয়াদে খেলাটির ভবিষ্যতের জন্যও ক্ষতিকর।
এর আগে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি), উয়েফা ও কনকাকাফও প্রস্তাবটির তীব্র সমালোচনা করে। বিভিন্ন মহলে বিশ্বকাপ বয়কটের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।
কিন্তু সমালোচনার মুখেও নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে ফিফা। সংস্থাটি জানিয়েছে, সদস্য দেশগুলোর মতামত নিতে একটি উন্মুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরামর্শ প্রক্রিয়া চলবে। ফিফার দাবি, বিশ্বকাপ বিক্রির কোনো পরিকল্পনা নেই; গণমাধ্যমে ভুল তথ্য প্রকাশের কারণে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
ফিফার প্রস্তাব অনুযায়ী, 'ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ' নামে একটি নতুন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হবে, যা বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের এই প্রতিষ্ঠানের সংখ্যালঘু অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবটি যদি অনুমোদিত হয়, তাহলে ২০২৭ সালের শুরুতে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের প্রত্যেকটির এককালীন ২ কোটি মার্কিন ডলার দেওয়া হবে এবং ২০২৭-৩০ মেয়াদের উন্নয়ন তহবিলও ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে আর্থিক সুবিধার এই প্রস্তাবটিও বিরোধিতা কমাতে পারেনি। উয়েফা ইতোমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, পরিকল্পনাটি বহাল থাকলে তাদের সদস্য দেশগুলো ফিফার প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না। উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন বলেছেন, বিশ্বকাপ কোনো বিনিয়োগ পণ্য নয় এবং ফুটবলের স্বার্থ কখনোই বিনিয়োগকারীদের মুনাফার কাছে জিম্মি হতে পারে না।
উয়েফার এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং কনকাকাফের ৪১টি সদস্য দেশও সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে ইনফান্তিনোর এই বাণিজ্যিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন