প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের সামরিক সাফল্য হিসেবে ‘অপারেশন সিঁদুর’কে তুলে ধরে ভারতীয় তৈরি তথ্যচিত্রের বিরুদ্ধে পাকিস্তান তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বলিউড সিনেমার মতো নাটকীয়তার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত ফলাফলকে বদলে দেওয়া সম্ভব নয়। তাদের বক্তব্য, তথ্যচিত্রটি আসলে সামরিক পরাজয়কে সাফল্য হিসেবে দেখানোর একটি প্রচেষ্টা। একই সঙ্গে পাকিস্তান ভারতকে ভবিষ্যতে হামলা চালানোর পরিস্থিতিতে কঠোর জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
জিও নিউজের রিপোর্ট অনুযায়ী, সোমবার পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মিডিয়া উইং আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এই বিবৃতি প্রদান করেছে। আইএসপিআর বলেছে, এক বছরও বেশি সময় পরে 'মার্কা-ই-হক' সংঘর্ষের পর ভারত 'কঠিন বাস্তবতার' মুখোমুখি হতে প্রস্তুত নয়। দেশটি ব্যর্থ অভিযানের পরাজয় স্বীকার না করে ইতিহাসকে নিজেদের পছন্দমতো উপস্থাপনের চেষ্টা করছে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ভারতের কনটেন্ট নির্মাতাদের তথ্যচিত্রটিকে ‘অতিরিক্ত নাটকীয়, অতিরঞ্জিত এবং তথ্যগতভাবে ভুল’ বলেও আখ্যা দিয়েছে। ওই তথ্যচিত্রে ভারতীয় রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সাক্ষাৎকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই আইএসপিআরের প্রশ্ন, ‘তথ্যচিত্রটি আসলে যুদ্ধের জয়, নাকি বলিউড সিনেমার একটি গল্প?’
আইএসপিআর জানিয়েছে, তথ্যচিত্রটিতে গভীরতা ও ভারসাম্যের অভাব এতটাই উল্লেখযোগ্য যে এটিকে একই সময়ে ‘ট্র্যাজেডি ও কমেডি’ বলা সম্ভব। সাক্ষাৎকারের নির্বাচিত অংশ, আবেগঘন বর্ণনা এবং বলিউডের সিনেমার মতো দৃশ্যায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত তথ্যকে নতুনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।
ভারত পরবর্তী সময়ে দাবি করে, পেহেলগাম হামলার তিন অভিযুক্তকে শনাক্ত করে ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই হত্যা করা হয়েছে। অর্থাৎ যে কথিত ‘অপারেশন সিঁদুর’ ৮২ দিন পর তাদের হত্যা করা হয়। কিন্তু তথ্যচিত্রে অপারেশন সিঁদুরকে পেহেলগাম হামলার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক অভিযান হিসেবে দেখানো হয়েছে।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রশ্ন তুলেছে, ‘যদি কথিত হামলাকারীদের ২৮ জুলাই হত্যা করা হয়ে থাকে, তাহলে ৭ মে ভারত কাদের শাস্তি দেয়ার দাবি করছে?’ পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আরও দাবি করেছে, ‘১০০ শতাংশ মিশন সফল’ হওয়ার দাবির সঙ্গে সামরিক অভিযানের বাস্তব রেকর্ডের কোনো মিল নেই। তাদের দাবি, ‘মার্কা-ই-হক’ সংঘর্ষের সময় পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী ভারতের হামলা প্রতিহত করেছে এবং আটটি সামরিক বিমান ভূপাতিত করেছে।
এরপর পাকিস্তান ‘অপারেশন বুনিয়ানুম মারসুস’ পরিচালনা করে। আইএসপিআরের দাবি, ওই অভিযানে ফাতাহ প্রিসিশন-গাইডেড রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র, পাকিস্তান বিমানবাহিনীর নির্ভুল আঘাত হানার অস্ত্র, দূরপাল্লার লইটারিং মিউনিশন এবং কামান ব্যবহার করা হয়। এসব অস্ত্র দিয়ে পাকিস্তানের নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা এবং দেশটির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত ২৬টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।
আইএসপিআর বলেছে, তথ্যচিত্রের বক্তব্য ভারতের নিরঙ্কুশ আধিপত্যের দাবিকে আরও দুর্বল করে। কারণ, এতে ভারতীয় সামরিক নেতৃত্ব পাকিস্তানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিমান হামলা, নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর দীর্ঘ সময়ের সংঘর্ষ এবং ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার বিষয় স্বীকার করেছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা বলেছে, এসব স্বীকারোক্তির সঙ্গে পাকিস্তানকে ‘চূড়ান্তভাবে পরাজিত’ করার দাবির কোনও মিল নেই।
যুদ্ধবিরতি কীভাবে ঘটেছিল, সে বিষয়ে ভারতীয় তথ্যচিত্রের বক্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে আইএসপিআর। তাদের দাবি, তথ্যচিত্রে উল্লেখ রয়েছে যে দুই দেশের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনসের (ডিজিএমও) মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যমে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল।
আইএসপিআর বলেছে, ‘এটিই প্রমাণ করে যে অপারেশন সিঁদুরকে একতরফা ভারতীয় সামরিক বিজয় হিসেবে দেখানোর চেষ্টা সঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার ঘটনাকে পরে নিঃশর্ত বিজয়ের প্রমাণ হিসেবে দেখানো যায় না।’
ভারতীয় তথ্যচিত্রে সংঘাতের বিস্তার নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। ওই তথ্যচিত্রে একদিকে আকস্মিক হামলা, নিখুঁত আঘাত, ভূখণ্ডের গভীরে হামলা এবং সংঘাত বাড়ানোর ক্ষেত্রে আধিপত্যের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে দাবি করা হয়েছে, ভারত ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘাত সীমিত রেখেছিল এবং পাকিস্তানকে সরে আসার সুযোগ দিয়েছিল।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বলেছে, ‘এই পরস্পরবিরোধী দাবিগুলো প্রমাণ করে, ভারতীয় ওই তথ্যচিত্রটি নিরপেক্ষ সামরিক বিবরণ নয়; বরং দেশের মানুষের জন্য পরিকল্পিত একটি বয়ান’। তাদের ভাষ্যে, ভারত সত্য প্রকাশ করেনি। বরং সামরিক ব্যর্থতাকে সফল অভিযান হিসেবে দেখাতে একটি প্রোপাগান্ডামূলক ভিডিও তৈরি করেছে।
সূত্র : জিওনিউজ ও ডন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন