প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব এবং রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, ব্যাংক খাতের নৈরাজ্য নিয়ে তার মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। আখতার হোসেন বলেছেন, ইসলামী ব্যাংকসহ যে ৫টি ব্যাংক একীভূত করা হয়েছে, সেগুলোর আগের মালিকেরা লুটপাট ও টাকা পাচার করে ব্যাংকগুলোকে দেউলিয়া করে ফেলেছে। অথচ পাস হওয়া ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ১৮ নম্বর ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই মালিকেরা যদি মাত্র সাড়ে ৭ শতাংশ টাকা ফেরত দেন, তাহলে তারা আবার ব্যাংকের মালিকানা ফিরে পাবেন। প্রশ্ন উঠছে, যারা ব্যাংক দেউলিয়া করেছে এবং লুটপাট করেছে, তাদের আবার ব্যাংক ফিরিয়ে দেয়ার দরকার কী?
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেছেন।
আর্থিক খাতে কোন ধরনের সংস্কার করতে না পারার কারণে অর্থমন্ত্রীকে আইএমএফ খালি হাতে ফিরতে হয়েছে এই দাবি করেছেন আখতার হোসেন। পাশাপাশি, প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে তিনি মধ্যবিত্তের জন্য ‘মরণফাঁদ’ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পথে ফকির বানানোর বাজেট বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি আরও বলেছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালের প্রকাশিত শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, দেশের ২৪০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। বর্তমানে দেশ একেবারে ঝুপড়ির মত হয়ে গেছে। এই সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময় ঋণের পরিমাণ ছিল ২৩ লাখ কোটি টাকা, যা কিছু মাসের মধ্যে আরো ১ লাখ কোটি টাকা বেড়ে ২৪ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। খেলাপি ঋণের কারণে এই সংসদের দুই সদস্য এখনো শপথ নিতে পারেননি।
বর্তমানে মূল্যস্ফীতির হার পৌনে ১০ শতাংশ এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি মাত্র ৪ শতাংশের কিছু বেশি বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সরকার বাজেট ঘোষণার আগেই দুই দফায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পরিকল্পনা সম্পন্ন করে রেখেছে।
বাজেটকে বিনিয়োগ পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে এনসিপি সদস্যসচিব বলেছেন, ঘাটতি মেটাতে সরকার অভ্যন্তরীণ ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা করেছে। যদি সরকার সব টাকা নিজে তুলে নেয়, তাহলে প্রাইভেট সেক্টরে ঋণ বিতরণ সম্ভব হবে না। ফলস্বরূপ, একটি 'ক্রাউডিং ইফেক্ট' তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে, যা বেসরকারি বিনিয়োগ এবং চাকরির সুযোগগুলোকে স্থবির করে দিতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন