প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের আসামে বাঙালি মুসলিমদের ১১০০টির বেশি ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি উল্লেখ করেছেন, "ভারতের মুসলিমরা দেশটির নাগরিক। মুসলিমরাও ভারতীয়।"
নাহিদ ইসলাম বুধবার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাসে এই বক্তব্য তুলে ধরেন।
স্ট্যাটাসে তিনি জানান, আসামে সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানে বাঙালি মুসলিমদের ১১০০টির বেশি ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষের দ্বারা। এ সময় ১০টির বেশি মসজিদও ধ্বংস হয়েছে, এর মধ্যে কয়েকটি মসজিদ ৫০ বছরেরও বেশি পুরোনো।
সরকারি ও বনভূমি থেকে কথিত অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের যুক্তি দেখালেও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবারের ওই অঞ্চলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি, তারা ভারতের স্বাধীনতার আগেও এসব এলাকায় বসবাস করে আসছে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, "ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না করেই তাদের গৃহহীন অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে।" তিনি জানান, এসব পরিবারের কয়েকজনকে আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ভারতে বাঙালি মুসলিমদের প্রতি বৈষম্য ও নিপীড়নের ধারাবাহিকতার অংশ এই উচ্ছেদ অভিযান। তিনি বলেন, "হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রভাবে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।" গত এক দশকে দেশটিতে প্রায় ১৯ হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বছরের পর বছর ধরে ভারতের বাঙালি মুসলিমরা দমন-পীড়ন, জোরপূর্বক সীমান্তের ওপারে ঠেলে দেওয়া এবং ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার মতো ঘটনার শিকার হচ্ছেন। তার মতে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে মুসলিম সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা তাদের অধিকার ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
আসামের উচ্ছেদ অভিযানের সঙ্গে ১৯৯২ সালে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনার তুলনা করে তিনি বলেন, ওই ঘটনা ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের স্থায়ী প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির অধীনে ভারত মুসলিম, খ্রিষ্টান ও শিখসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং নিম্নবর্ণের হিন্দুদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, মুসলিমদের নিপীড়নের অভিযোগের বিষয়ে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে। একই সঙ্গে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগে ভারত সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান।
তিনি বলেন, "জাতি, ধর্ম কিংবা সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার ও সমতা নিশ্চিত করতে হবে।"
স্ট্যাটাসের শেষাংশে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ভারতের মুসলিমরাও ভারতীয়।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন