প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজ রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার দুঃখজনক ঘটনার একটি বছর পূর্ণ হলো।
গত বছরের ২১ জুলাই সংঘটিত দুর্ঘটনায় বিমানটির পাইলটসহ মোট ৩৬ জন প্রাণ হারায়। নিহতদের মধ্যে ২৮ জন ছিল শিক্ষার্থী, তিন জন শিক্ষক, তিন জন অভিভাবক, একজন কর্মচারী ও বিমানটির পাইলট।
গত বছরের ২১ জুলাই দুপুর ১টার দিকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় বিমানটির পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম নিহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিমান বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্য এবং ফায়ার সার্ভিসের স্বেচ্ছাসেবকরাও উদ্ধার তৎপরতায় অংশগ্রহণ করেন। তারা আহত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উদ্ধার করে দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করতে এবং জরুরি ভিত্তিতে রক্ত সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই একাধিক অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আহতদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, চিকিৎসক ও নার্সরা একসাথে কর্মরত ছিলেন যাতে আহতদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পারে।
গুরুতর দগ্ধ ও আহতদের অনেকের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। তাদের পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মাহফুজাও (৪৫) ছিলেন।
এ ঘটনায় তৎকালীন অন্তবর্তীকালিন সরকারের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত বছরের ৫ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেওয়া হয়।
পরে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সংবাদ সম্মেলনে জানান, দুর্ঘটনায় মোট ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল আলম বলেন, ‘তদন্তে এসেছে যে স্কুল ভবনটি রাজউকের অনুমোদিত বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি)-এর আওতায় নির্মিত হয়নি। ভবনে মাত্র একটি সিঁড়ি ছিল, যেখানে ন্যূনতম তিনটি সিঁড়ি থাকা উচিত ছিল। পর্যাপ্ত সিঁড়ি থাকলে হতাহতের সংখ্যা অনেক কম হতে পারত।’
ভবিষ্যতে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে, বিমান বাহিনীর ইনিশিয়াল ট্রেনিং রাজধানীর বাইরে সরিয়ে নিতে তদন্ত কমিটি সুপারিশ করে।
একটি বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও উত্তরার মাইলস্টোন ট্রাজেডির ক্ষত এখনও ভুগছেন নিহতদের স্বজন, সহপাঠী, শিক্ষক এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা।
সেই দিনের বিভীষিকা, স্বজন হারানোর আর্তনাদ এবং আহতদের জীবন বাঁচাতে সংগ্রামী উদ্ধারকর্মীদের দৃশ্য এখনও অনেকের স্মৃতিতে অম্লান হয়ে আছে।
আজও দুর্ঘটনায় আহত কয়েকজন চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রয়াসে রয়েছেন।
যেসব পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে, তাদের কাছে ২১ জুলাই শুধুমাত্র একটি তারিখ নয়— এটি চিরস্থায়ী বেদনা, অপূরণীয় শোক এবং অমলিন স্মৃতির দিন।
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ট্রাজেডির এক বছর পূর্তির স্মরণে আজ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
কর্মসূচির মধ্যে সকালে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁদের স্মরণ করেছেন।
বিকেলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে এক আলোচনা সভা এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন