প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দিনাজপুর, ১ অক্টোবর, ২০২৬ : দিনাজপুরে বিজিবি সদস্যদের পৃথক অভিযানে আজ ৮৭ কেজি ১শ’ গ্রাম ওজনের একটি মূল্যবান কষ্টি পাথরের শ্বেত মূর্তিসহ বেশ কয়েকটি খন্ড মূর্তি উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের ৪২ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাসস’কে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গতকাল বুধবার রাত আড়াইটায় দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন ৪২ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানের নেতৃত্বে বিজিবি, এসআরবি ও এলআই বিজিবি’র একটি যৌথ দল দিনাজপুর বোচাগঞ্জ উপজেলার তেনাপাড়া গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় ৩৫ কেজি ৬শ’ গ্রাম ওজনের একটি শ্বেত পাথরের মূর্তির খণ্ড উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দোহর গ্রামে পৃথক একটি অভিযান পরিচালিত হয়। সেখান থেকে ৮৭ কেজি ১শ’ গ্রাম ওজনের একটি বেলে পাথরের খণ্ড, ৩০ কেজি ৭শ’ গ্রাম ওজনের একটি শ্বেত পাথরের খণ্ড এবং ৩৫ কেজি ৬শ’ গ্রাম, ১৬ কেজি ৮শ’ গ্রাম ও ১৮ কেজি ৬শ’ গ্রাম ওজনের তিনটি কষ্টি পাথরের খণ্ড উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি জানায়, ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধারকৃত মূর্তিগুলো চোরাচালানি চক্র পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করার উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে মজুত করে রাখা হয়েছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি সদস্যদের যৌথ অভিযানে মূর্তিগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধার কষ্টি পাথরের মূর্তিগুলো আজ বেলা ১১টায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পাথরের খণ্ডগুলো প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে নিশ্চিত করেছেন। ১৯৬৮ সালের পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইন, যা ১৯৭৬ সালে সংশোধিত হয়, অনুযায়ী এ ধরনের প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণের দায়িত্ব সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ওপর ন্যস্ত।
বিজিবি জানায়, উদ্ধার কষ্টি, বেলে ও শ্বেত পাথরের খণ্ডগুলোর মোট বাজার মূল্য ১ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। তবে প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় এসব নিদর্শনের প্রকৃত মূল্য অনেক বেশি।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য রক্ষা ও প্রত্নসম্পদ পাচার প্রতিরোধে বিজিবি ভবিষ্যতেও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি মাদক, মানবপাচার, অস্ত্র ও অন্যান্য আন্ত:সীমান্ত অপরাধ দমনেও বিজিবি দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন