প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারার মাধ্যমে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের একমাত্র গোলে মিকেল মেরিনো স্পেনের জয় নিশ্চিত করেন। এই হারের ফলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দীর্ঘ এবং বর্ণাঢ্য অধ্যায়েরও শেষ হলো বিশ্বকাপের মাঠে।
ম্যাচের পর্যালোচনার মাধ্যমে দেখা গেছে, স্পেনের অসাধারণ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি পর্তুগালের কিছু কৌশলগত ভুলও ছিল তাদের বিদায়ের অন্যতম কারণ।
ভারতীয় ফুটবলারদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, যিনি ৪১ বছর বয়সী একটি বটবৃক্ষের মতো আক্রমণ চালানোর মূল ভরসা হিসেবে ছিলেন, পুরো ম্যাচজুড়ে তার গতি ও তীক্ষ্ণতা আগের মতো না থাকায় বেশ কিছু আক্রমণ প্রতিরোধ হয়ে যায়। ম্যাচের শেষের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগেও তিনি সফল হতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে, বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী মিডফিল্ড থাকা সত্ত্বেও পর্তুগালের আক্রমণে একেবারে স্বাভাবিক ছন্দ ছিল না।
রক্ষণাত্মক কৌশলকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার কারণে ম্যাচটিকে দেননি।
এমনকি ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস ও ব্রুনো ফের্নান্ডেজের মতো সৃজনশীল মিডফিল্ডার থাকা সত্ত্বেও পুরো ম্যাচে পর্তুগাল রক্ষণাত্মক এবং পাল্টা আক্রমণের মধ্যে আটকে পড়েছিল। তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার পরিবর্তে বারবার রক্ষণে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছিল, যা স্পেনের কাছে সুযোগ করে দেয়।
সহজ সুযোগগুলোকে নষ্ট করার বিষয়টি ছিল মারাত্মক।
ম্যাচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেও পর্তুগাল গোলতে ব্যর্থ হয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধের শেষের দিকে বের্নার্দো সিলভা ছয় গজ দূর থেকে হেডে সহজ সুযোগটি নষ্ট করেন। তার আগেও ব্রুনো ফের্নান্দেজ ভালো অবস্থানে থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। এই মিস করাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।
শেষ মুহূর্তে রক্ষণভাগের অসতর্কতা ছিল চিন্তার বিষয়।
অতিরিক্ত সময়ে দ্রুত ফ্রি-কিক থেকে স্পেন দ্রুত আক্রমণ সাজায়। সেই মুহূর্তে পর্তুগালের রক্ষণভাগ সম্পূর্ণ অগোছালো অবস্থায় ছিল। ফেরান তোরেসের পাস থেকে মিকেল মেরিনোর করা গোলটির পিছনে ছিল পর্তুগিজ ডিফেন্সের এক মুহূর্তের মনোযোগের অভাব।
মানসিক দৃঢ়তার অভাব এবং পরিকল্পনার ঘাটতি স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে।
পুরো ম্যাচ জুড়ে পর্তুগাল আত্মবিশ্বাসী মনে হয়নি। গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার মতো স্পষ্ট পরিকল্পনা বা আগ্রাসী মানসিকতা দেখা যায়নি। প্রতিভাবান খেলোয়াড়ে পরিপূর্ণ দলর হয়েও তারা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়।
স্পেনের কাছে হারের পেছনে প্রতিপক্ষের দক্ষতার পাশাপাশি পর্তুগালের কৌশলগত ভুল, সুযোগ নষ্ট এবং রক্ষণভাগের অসতর্কতাগুলো বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অধ্যায় শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে, পর্তুগালের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, কোচের কৌশল এবং দল পুনর্গঠন নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হওয়ার লক্ষণও ঘটছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন