প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ক্রিকেটে ব্যাটারদের মাথার সুরক্ষায় আধুনিক হেলমেট ব্যবহারের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য নাম হলো ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ডেনিস অ্যামিস। তিনি মোটরসাইকেলের হেলমেট মাথায় তুলে ভয়ংকর গতির ফাস্ট বোলারদের মোকাবিলা করতে গিয়ে একসময় কটাক্ষের শিকার হন। তবে, তার সাহসী উদ্যোগই পরবর্তী সময়ে ক্রিকেটে সুরক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে সহায়ক হয়।
১৯৭০-এর দশকে ক্রিকেটে ব্যাটারদের জন্য আধুনিক হেলমেটের প্রচলন ছিল না। ডেনিস লিলি, জেফ থম্পসন, মাইকেল হোল্ডিং, অ্যান্ডি রবার্টস, জোয়েল গার্নার ও ইমরান খানের মতো গতিদানবদের সামনে ব্যাটারদের সাহস, দক্ষতা ও প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করতে হতো।
এমন পরিস্থিতিতে ১৯৭৭ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড সিরিজ ক্রিকেটে মোটরসাইকেলের ভারী হেলমেট ও পলিকার্বনেটের ভাইজর পরে ব্যাটিং করেন অ্যামিস। তার এই উদ্যোগ ক্রিকেটে মাথার সুরক্ষার বিষয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে সবাইকে।
অ্যামিস ৫০টি টেস্ট খেলে ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হিসেবেও পরিচিত। তবে, হেলমেট ব্যবহারের শুরুটা তার জন্য সহজ ছিল না। সতীর্থ ও প্রতিপক্ষের কাছ থেকে তাকে নানা ধরনের কটাক্ষ শুনতে হয়েছিল।
এক সাক্ষাৎকারে অ্যামিস তার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, "ওয়ার্ল্ড সিরিজ ক্রিকেটে ঘণ্টায় ৯০ মাইল বা প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার গতিতে বল করতে সক্ষম এমন ১৯ জন ফাস্ট বোলার ছিলেন।" এর আগে লিলি ও থম্পসনের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি মাথার সুরক্ষার গুরুত্ব বুঝতে পারেন।
অ্যামিসের ভাষায়, "মাথায় আঘাতের পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।" ক্রিকেটার ফিলিপ হিউজের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা সেই ঝুঁকির নির্মম উদাহরণ। এসব বিবেচনা করে তিনি মোটরসাইকেলের হেলমেটের সঙ্গে পলিকার্বনেটের ভাইজর ব্যবহার শুরু করেন।
শুরুর দিকে তাকে শুনতে হতো, "এই অ্যামিস, তোমার মোটরসাইকেল কোথায়?" কিন্তু সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলে যায়। একসময় অন্য ব্যাটাররাও হেলমেটের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন।
অ্যামিস জানান, অস্ট্রেলীয় ব্যাটার ডেভিড হুকসের চোয়াল ভেঙে যাওয়ার পর তাকে ছয় সপ্তাহ স্ট্র দিয়ে তরল খাবার খেতে হয়েছিল। এরপর অ্যান্ডি রবার্টসের বিপক্ষে খেলতে নামার আগে হুকস অ্যামিসের কাছে হেলমেট ধার চান।
এরপর ঘটে যায় একটি স্মরণীয় ঘটনা। হেলমেট পরে রবার্টসের করা প্রথম বলটি মাথার দিকে উঠে এলে হুকস সেটিকে হুক করে ছক্কা হাঁকান। অ্যামিসের চোখের সামনেই ঘটে ঘটনাটি।
সেই মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে অ্যামিস বলেন, "ধারাভাষ্যকার রিচি বেনো ঘটনাটিকে ক্রিকেটের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দেওয়া মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।"
অ্যামিসের কাছে ঘটনাটি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। যে ব্যাটার কয়েক সপ্তাহ আগে চোয়াল ভাঙার কারণে স্বাভাবিকভাবে খেতে পারছিলেন না, সেই তিনিই একই বোলারের বিপক্ষে একই মাঠে দ্রুতগতির বল হুক করে সীমানার বাইরে পাঠিয়েছিলেন।
ক্রিকেটে হেলমেটের ব্যবহার এক দিনে সর্বজনীন হয়ে ওঠেনি। তবে, ডেনিস অ্যামিসের সেই সাহসী পদক্ষেপ ব্যাটারদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একসময় যে হেলমেট নিয়ে তাকে বিদ্রূপ সহ্য করতে হয়েছিল, সেটিই পরবর্তী সময়ে আধুনিক ক্রিকেটে ব্যাটারদের অপরিহার্য সুরক্ষাসামগ্রীর একটি হয়ে ওঠে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন