প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নড়াইল সদরের সিনিয়র উপজেলা মৎস অফিসার মো. আবু রায়হানের (৩৫) অফিসকক্ষে প্রবেশ করে ভাঙচুর, সরকারি কাজে বাঁধা দেয়াসহ কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ এনে থানায় এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি ২৮ জুন, রোববার রাতে সদর থানায় দায়ের করেন মৎস কর্মকর্তা, যার অভিযোগে মো. জিসানুর রহমানসহ আরও অজ্ঞাত চার থেকে পাঁচ জন আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত যুবক জিসানুর যদুনাথপুর গ্রামের টিপু সুলতানের সন্তান। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী মৎস কর্মকর্তা আবু রায়হানের domicile সাতক্ষীরার শ্যামনগরে।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু মামলার বিষয়টি যাচাই করেছেন এবং সময় সংবাদকে নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, সদর উপজেলা পরিষদ ভবনের তৃতীয় তলায় উপজেলা মৎস কর্মকর্তার কার্যালয়ে জিসানুর নামের এক যুবক মাঝে মধ্যেই অফিসের গোপনীয় বিভিন্ন তথ্য চাওয়ার জন্য আসে। তার দাবি অনুযায়ী অফিসের গোপনীয় তথ্য প্রদান না করলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। সবশেষ রোববার, ২৮ জুন, বিকেল ৩ টার দিকে চার থেকে পাঁচ জনকে নিয়ে মৎস কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রবেশ করে অভিযুক্ত জিসানুর।
এ সময় তারা নড়াইল জেলার সকল সুবিধাভোগী সদস্যদের প্রদর্শনী তালিকা দাবি করে। পূর্বে এ তালিকা সরবরাহ করা হয়েছে জানানো হলে, অভিযুক্ত জিসানুর ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করতে থাকে, পরে মৎস কর্মকর্তাকে মারধর করে এবং সরকারি ডেস্কটপ ও মনিটর ভেঙে দেয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা রয়েছে।
এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস কর্মকর্তা (সদর) মো. আবু রায়হান সময় সংবাদকে জানান, "জিসানুর বেশ কিছুদিন ধরেই আমার কার্যালয়ে এসে ঝামেলা করছেন। সে প্রদর্শনী বরাদ্দের দাবি করেছেন, কিন্তু যে কোনো বরাদ্দ একটি কমিটির মাধ্যমে চূড়ান্ত করে দেওয়া হয়। আমি বিষয়টি বার বার বুঝিয়ে বলার পরও তিনি সবসময় নানা কারণে ঝামেলা করেন। সর্বশেষ তিনি আমার অফিসে এসে ভাঙচুর-মারধর করে গেছেন। আমি থানায় মামলা দায়ের করেছি।"
তবে অভিযুক্ত জিসানুর সব অভিযোগ অস্বীকার করে সময় সংবাদকে বলেন, “গ্রামের কৃষক শ্রেণির লোকজন নিয়েই আমাদের ওঠা-বসা। বিভিন্ন সময়ে উপজেলা অফিসে কাজে যেতে হয়। মৎস কর্মকর্তার অফিসে তথ্যের জন্য গিয়েও সেটা ঠিকমতো পাওয়া যায় না। বরং তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করে তাড়িয়ে দেন।”
তিনি যোগ করেন, “রোববার বিকেলে কিছু তথ্যের জন্য গিয়েছিলাম। সহযোগিতা না করে বরং মৎস কর্মকর্তা রায়হান সাহেব অকারণে গালিগালাজ সহ অশালীন আচরণ করেছেন। তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাব দেখান। তার অপেশাদার আচরণ, গালিগালাজ সহ সব আমি মোবাইল ফোনে রেকর্ড করি। তিনি চেয়ার থেকে উঠে এসে আমার ফোন হাত থেকে কেঁড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন। এসময় আমাকে মারধর করেন, আমি নিজে বাঁচার চেষ্টা করি। ধস্তাধস্তির সময় তার নিজের হাতের ধাক্কায় কম্পিউটার নিচে পড়ে ভেঙে যায়। তারা অফিসের বেশ কয়েকজন মিলে আমাকে মেরেছে। তখন অফিসে আমাকে মারধরের পর মামলা দেয়ার হুমকি দিয়েছিলো। এখন শুনলাম আমার নামে মামলা করেছে।”
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু জানান, “আমরা জানার পরই ঘটনাস্থল তাৎক্ষণিক পরিদর্শন করি। এ ঘটনায় মৎস কর্মকর্তার এজাহারের ভিত্তিতে থানায় নিয়মিত মামলা রজু হয়েছে। আসামি ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন