প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য রোধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন স্থানীয় সময় মঙ্গলবার এই প্রস্তাব প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) জানিয়েছে, সেকশন ৩০১ তদন্তের আওতায় বাংলাদেশ, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, যুক্তরাজ্যসহ ১৫টি অর্থনীতি থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে তদন্তের আওতায় থাকা বাকি ৪৫টি দেশের জন্য অতিরিক্ত শুল্কের হার হবে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।
ইউএসটিআরের দাবি, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য প্রতিরোধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে মার্কিন শ্রমিক ও উৎপাদকরা বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার একটি বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি বন্ধে ব্যর্থতা গ্রহণযোগ্য নয়। এতে মার্কিন শ্রমিকদের জন্য বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।”
এদিকে, ইউএসটিআর আরও জানিয়েছে, একটি নতুন টেক্সটাইল বা বস্ত্র আমদানি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব এসেছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ পোশাক ও বস্ত্রপণ্য তুলনামূলক কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারবে। তবে শুল্কহার ও আমদানির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
এই ঘোষণাটি দেওয়া হয়েছে এমন সময়ে, যখন আগামী ২৪ জুলাই ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত অস্থায়ী ১০ শতাংশ সর্বজনীন শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি এই শুল্ক কার্যকর হয়েছিল। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় আরোপিত ওই শুল্ক বাতিল করে দেয়।
গত সোমবার ইউএসটিআর ব্রাজিলের ডিজিটাল বাণিজ্যনীতি ও অগ্রাধিকারমূলক শুল্কব্যবস্থা নিয়ে পৃথক সেকশন ৩০১ তদন্তের ফলস্বরূপ দেশটির বিভিন্ন পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে চীনসহ ১৬টি দেশের অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে পরিচালিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের ফলও শিগগির প্রকাশ করা হতে পারে।
তবে নতুন শুল্ক ব্যবস্থার বাইরে রাখা হয়েছে কিছু পণ্য যেমন জ্বালানি, রেয়ার আর্থ খনিজ, কিছু ধাতু, গরুর মাংস, কফি, নির্দিষ্ট ফল ও সবজি, ওষুধ, জৈব রাসায়নিক পদার্থ এবং উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ। প্রস্তাবিত শুল্ক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিয়ে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত জনমত গ্রহণ করা হবে। উক্ত বিষয়ে ৭ জুলাই ইউএসটিআর একটি গণশুনানির আয়োজন করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন