প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান চিরকাল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কোনো দেশের পক্ষেই সম্ভব নয়—বাস্তবতার নিরিখে এমন কথাই স্মরণ করিয়ে দিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা নিয়ে যখন দেশের শীর্ষ পর্যায়ে মতভেদ বাড়ছে, ঠিক তখনই সাধারণ মানুষের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এমন মন্তব্য করেন।
রবিবার তেহরানে দুটি আলাদা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে, তিনি গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া একটি সমঝোতা স্মারকের পক্ষপাতিত্ব করেন। যদিও ধারণা করা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এই চুক্তির বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত গত মাসেই চুক্তিটি ভেস্তে যায়।
তবে পেজেশকিয়ান মনে করেন, যারা এই আলোচনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন, তাদের মতে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এটিই ছিল সেরা উপায়। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধও নয়, আবার শান্তিও নয়—এমন অবস্থা থেকে দেশকে বাঁচাতে একদিন না একদিন আমাদের সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। এই স্মারকটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে যুক্তি ও মর্যাদার সঙ্গে সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে দেশের অর্থনীতি ও সমাজের উপর কী প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে তিনি বারবার সতর্ক করেছেন। এর ফলে অনেক সময় কট্টরপন্থী নেতাদের সঙ্গে তার মতবিরোধও দেখা গেছে। নিজের শক্ত অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের অবশ্যই জনগণের পাশে থাকতে হবে। আমরা যদি তাদের বোঝাতে না পারি যে আমরা সবাই একই দেশের মানুষ, তবে আমাদের হাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক শক্তি থাকলেও আমরা হেরে যাব। তার সরকার এখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও ভবিষ্যৎকে একটি সম্মানজনক জায়গায় নিয়ে যেতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।
পেজেশকিয়ানের ওই অনুষ্ঠানে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খামেনির নাতি আয়াতুল্লাহ সৈয়দ হাসান খামেনিও উপস্থিত ছিলেন। তিনিও বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, কখনো কখনো একটি বিজ্ঞ ও কৌশলী আপস শত শত যুদ্ধের চেয়েও অনেক বেশি কিছু অর্জন করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত কীভাবে সামলানো হবে, তা নিয়ে ইরানের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বিতর্ক বাড়ছে। একাংশ মনে করে, অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আগেই নিজেদের শক্ত অবস্থান থেকে আলোচনা শুরু করা উচিত। তবে নিরাপত্তা কাঠামোর কট্টরপন্থীরা এখনো যেকোনো ধরনের সংলাপের ঘোর বিরোধী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন