প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রকাশ করেছে যে, অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে দায়ের করা প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির মামলায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে, বাদী ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরী এই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতউল্লাহর আদালতে সানায়ার পক্ষে আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় রনি নারাজি আবেদন জমা দেন। আইনজীবী জানান, বাদী এবং তিন সাক্ষীকে আগামী ২০ অক্টোবর আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই দিন এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর সানায়া চৌধুরী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তিশা তার কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা দামের একটি শাড়ি নেন। অনুষ্ঠান শেষে শাড়িটি ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি। সানায়া অভিযোগ করেছেন যে, শাড়ি ফেরত চাওয়ার কারণে তিশা তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর ম্যাসেঞ্জারে মামলা করার এবং সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ১২ নভেম্বর গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি।
পিবিআইয়ের এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম গত ২৫ মে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিশা তার সাবেক চালকের মাধ্যমে শাড়িটি নিয়েছিলেন। দুই পক্ষের ম্যাসেঞ্জার কথোপকথন পর্যালোচনা করে পিবিআই জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর সানায়া শাড়ি ফেরত চেয়ে বার্তা পাঠালেও তিশা তা দেখেননি।
২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর শাড়িটির ছবি পাঠানোর পর তিশা জানান, বিষয়টি তার মনে নেই এবং তিনি খুঁজে দেখে জানাবেন। তিশার বক্তব্য অনুযায়ী, তার সাবেক চালক শাড়িটি ফেরত না দিয়ে চাকরি ছেড়ে চলে যান।
পরে মামলার বিষয়টি জানার পর তিশা ডাকযোগে শাড়িটি ফেরত পাঠান। পিবিআইয়ের মতে, শাড়িটি ফেরত পাঠানোর কারণে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে, মেসেজের শেষাংশে শাড়ি ফেরত পাঠানোর ঠিকানা জানতে চাওয়া এবং সানায়ার সুন্দর জীবন কামনা করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হুমকির অভিযোগেরও প্রমাণ মেলেনি।
তবে বাদীপক্ষ দাবি করেছে, তদন্তের সময় হুমকির অডিওসহ বিভিন্ন প্রমাণ দেওয়া হলেও সেগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এ কারণে তারা পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করছেন না।
শাড়ি নিয়ে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে এটি দ্বিতীয় মামলা। এর আগে অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’র কাছ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা দামের একটি শাড়ি নেওয়া এবং প্রচার ও মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতি না রাখার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। ওই মামলায় ডিবির তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা বলা হয়। পরে আদালতে হাজির হয়ে গত ১৩ আগস্ট জামিন পান তিশা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন