প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চলতি বছরের ৬ ও ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের ১৭,০০০ ফুটের নিচের একাধিক বিমান পথ (এয়ার রুট) সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার খবরের ফলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে যে, দেশটি নতুন কোনো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা করছে। স্থলভাগ থেকে সমুদ্র অভিমুখে এই ধরনের বিশেষ আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ সার্বিক অপারেশনের একটি বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হলেও, সরকারিভাবে এ বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের প্রধান প্রশ্ন হলো—এই নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমা দিয়ে ভূ-পৃষ্ঠ ঘেঁষে উড্ডয়নক্ষম কোনো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আরব সাগরের দিকে পরীক্ষা করা হচ্ছে কি না। কারণ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় নিচু দিয়ে উড্ডয়ন কৌশলটি মূলত ক্ষেপণাস্ত্রের নেভিগেশন, পাল্লার সমন্বয় এবং নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়।
‘এ০৫৬৪/২৬’ বিজ্ঞপ্তির আওতায় ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫,২০০ মিটার (১৭,০০০ ফুট) উচ্চতা পর্যন্ত কিছু নির্দিষ্ট রুট বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে মূল অ্যাভিয়েশন টেক্সট এবং সুনির্দিষ্ট স্থানাঙ্ক প্রকাশ না করায় এর ভৌগোলিক সীমানা ও প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
মানচিত্রে দেখা যায়, এই কড়াকড়ি পাকিস্তানের মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলীয় মূলতান, রহিম ইয়ার খান, সুক্কুর ও লারকানা হয়ে করাচি উপকূলের ওরমারা এবং গওয়াদারের দিকে বিস্তৃত হয়েছে। পাশাপাশি আরব সাগরের একটি ছোট অংশেও এয়ারস্পেস বন্ধ রাখা হয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার রেঞ্জ-সেফটি ব্যবস্থার দিকে নির্দেশ করে।
প্রতিদিন গ্রিনিচ মান সময় ০৪:৪৫ থেকে ০৮:১৫ পর্যন্ত (পাকিস্তান সময় সকাল ৯:৪৫ থেকে দুপুর ১:১৫) এই সীমাবদ্ধতা কার্যকর থাকবে। এই নির্দিষ্ট সময়ে অসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি সামুদ্রিক ও আকাশসীমায় পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব।
১৭,০০০ ফুট উচ্চতার এই সীমা মূলত সম্ভাব্য বিপজ্জনক এলাকার সর্বোচ্চ উচ্চতা নির্দেশ করে, যা ক্ষেপণাস্ত্রের চূড়ান্ত উড্ডয়ন উচ্চতা নয়। তাই এটি নিচু দিয়ে যাওয়ার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সাথে মানানসই হলেও, এখান থেকে নির্দিষ্ট কোনো ক্ষেপণাস্ত্র, লাঞ্চার বা সামরিক প্ল্যাটফর্মকে সরাসরি শনাক্ত করা যায় না।
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়টি এখনো বিশ্লেষকীয় অনুমানের পর্যায়ে রয়েছে।
ফাতাহ-৪, বাবুর সিরিজ, রা'আদ এবং তাইমুর ক্ষেপণাস্ত্রের কথা এখানে জোর আলোচনায় আসছে, কারণ এদের নিচু দিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা এই এয়ারস্পেসের বিজ্ঞপ্তির সাথে মিলে যায়। তবে কোনটি ব্যবহৃত হচ্ছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাকারীদের কাছে ভূ-পৃষ্ঠ ঘেঁষে আসা এই আঘাত হানার ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য সতর্ক হওয়ার সময় অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
তবে এমন এয়ারস্পেস অ্যালার্ট কোনো সামরিক যুদ্ধের বার্তা দেয় না। তাই যতক্ষণ না ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ, ফ্লাইট ডেটা বা অফিসিয়াল বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এটিকে কেবল একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার আগাম প্রস্তুতি হিসেবেই ধরে নেওয়া হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন