প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রশিবিরের এক নেতার ওপর মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে এই ঘটনাটি ঘটে।
এই ঘটনার ফলে ক্যাম্পাসে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
অভিযুক্ত আলীনুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। অপরদিকে, ভুক্তভোগী কাজী জুহায়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি শহীদ জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে পরীক্ষা শেষে হলের খাবার খেতে যান কাজী জুহায়ের। হলের গেট পেরিয়ে করিডোরে পৌঁছানোর পর হঠাৎ আলীনুর রহমান তার ওপর থাপ্পড় দিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় অন্যান্য শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, আলীনুর তাদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেন।
পরে আলীনুর ২১৭ নম্বর কক্ষে চলে যান। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশিত হয়েছে।
ঘটনার পর ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা হলে এসে উত্তেজিত হয়ে আলীনুরের কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় কক্ষটির জানালার কাচ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সরিয়ে দেন।
এরপর প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় আলীনুরকে হল থেকে বের করে প্রক্টর অফিসে নেওয়া হয়। এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রদল। পরে কিছুক্ষণ পর তারা ফটক খুলে দেয়।
ভুক্তভোগী কাজী জুহায়ের বলেন, ‘আজ পরীক্ষা শেষে এক বন্ধুর সঙ্গে হলে যাচ্ছিলাম। আমার পায়ের লিগামেন্টে সমস্যার কারণে ক্রাচে ভর করে আস্তে আস্তে যাচ্ছিলাম। এ সময় আলীনুর আচমকা এসে আমাকে থাপ্পড় দিতে শুরু করে। এর আগে তার সঙ্গে আমার কোনো বিরোধও ছিল না। কেন তিনি এ কাজ করেছেন, তা জানি না।’
তিনি আরো বলেন, আমি হতভম্ব হয়ে তাকে কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তুই বেয়াদব, তাই মারছি। যা পারিস করিস। আমার ইচ্ছা হয়েছে, তাই মারছি।
অভিযুক্ত আলীনুর রহমান বলেন, আমি তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে বেয়াদব বলি। পরে তিনি আমাকে গালি দেন। এ সময় আমি তাকে থাপ্পড় দিই। তবে তার সঙ্গে আমার আগে কোনো সমস্যা ছিল না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনার কথা শুনে আমরা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যাই। উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করি। পরে পুলিশের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে নিরাপদে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসি। উভয় পক্ষকে নিয়ে ঘটনাটি সমাধানের চেষ্টা করছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন