প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য মাঠপর্যায়ে নজরদারি অধিকতর জোরদার করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার অব্যাহত রাখা, যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন করা, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি বজায় রাখা এবং সময়ের প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন।
তিনি জানান, সরকারি দলের বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের জনগণের কাছে সরকারি সেবার সুফল পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
শনিবার (৫ জুন) সংসদ ভবনে সরকারি দলের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। বৈঠকে শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, আইন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরেন স্ব স্ব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেন।
তিনি আরও বলেন, বৈঠকে সাতজন মন্ত্রী নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। শিক্ষা খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পাঠ্যক্রমকে যুগোপযোগী ও হালনাগাদ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও মানসম্মত করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠে তরুণদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য খাত নিয়ে আলোচনায় ডেঙ্গুসহ মৌসুমি রোগ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। চিফ হুইপ বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে এবং হাম ও ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। হাসপাতাল অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং নতুন হাসপাতাল স্থাপনের কাজও এরই মধ্যে এগিয়ে চলছে। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও তিনি জানান।
যোগাযোগ খাত নিয়ে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সড়ক, সেতু ও অবকাঠামো উন্নয়নের একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। ঢাকা-সিলেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের উন্নয়নকাজ চলছে। পরিবহন টার্মিনাল, পানি উন্নয়ন এবং বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন ও সেচ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলেও উল্লেক করেন।
বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, অধিকাংশ গ্রাহকের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করেই সীমিত পরিসরে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে উৎপাদন খরচ বাড়িয়েছে। এর পরেও সরকার ১ লাখ কোটি টাকার বিপুল ভর্তুকি দিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমানোর চেষ্টা করছে।
তিনি আরও জানান, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলেও ৬৬ শতাংশ গ্রাহকের জন্য দাম বাড়েনি। যারা ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাদের বাড়বে না।
আইন ও বিচার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে সরকার কাজ করছে। শিশু নির্যাতনসহ গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। রামিসা হত্যাকাণ্ডটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। এটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হচ্ছে। রোববার মামলাটির রায় ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি জানান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বলেছেন, দেশে চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের কোনো জায়গা নেই। মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং অপরাধ দমনে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চিফ হুইপ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ও সেবার বাস্তব অবস্থা তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন। কোথাও স্কুলে শিক্ষক অনুপस्थित থাকলে, হাসপাতালে সেবা ব্যাহত হলে বা সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়নে গাফিলতি থাকলে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে সমাধানের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য শুধুমাত্র প্রকল্প গ্রহণ নয়, বরং জনগণ যাতে প্রকল্পের বাস্তব সুফল পায় তা নিশ্চিত করা।
আসন্ন বাজেট অধিবেশন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, দেশের আর্থিক বাস্তবতা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করছে।
সংবিধান সংশোধন নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা হয় এবং বাংলাদেশেও অতীতে একাধিকবার তা হয়েছে। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ও মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন টেকসই হতে পারে না। প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সময়োপযোগী পরিবর্তনের জন্য সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
বিরোধী দলের অংশগ্রহণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে চিফ হুইপ বলেন, জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতেই এগিয়ে যাওয়া উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় সব পক্ষ গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিতভাবে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যালোচনা করেন এবং কোথাও ত্রুটি বা দুর্বলতা থাকলে তা সংশোধনের নির্দেশ দেন। প্রশাসনের কার্যক্রম আরও জনমুখী ও কার্যকর করে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
চিফ হুইপ আরও জানান, দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের সক্ষমতা বাড়াতে চীনের সহযোগিতায় নতুন হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে পাঁচটি হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত একটি হাসপাতালের কাজ এগিয়ে গেছে এবং আরও কয়েকটি হাসপাতাল স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা দেশের আরও বেশি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এরমধ্যে সর্বনিম্ন একটি হাসপাতাল নারী ও শিশুদের জন্য করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন