প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের কাছে ফুটবলের জাদুকরী নান্দনিকতা বললে, সবার আগে মনে পড়বে মাঠের তারকা খেলোয়াড়দের সম্পর্কে। তবে মাঠের গোলপোস্টের ভেতরে আছড়ে পড়া বলটির উৎপত্তির জায়গাটি কোথা, তা অনেকেরই জানা নেই। বিস্ময়কর হলেও এটি সত্যি যে, বিশ্বের ফুটবল উৎপাদনের প্রকৃত প্রাণকেন্দ্র বা ‘ফুটবল ফ্যাক্টরি’ হিসেবে পরিচিত শহর শিয়ালকোট। এই শহরটি উত্তর-পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থিত এবং বর্তমানে এটি বিশ্ব ফুটবলের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিসংখ্যানের মাধ্যমে জানা যায়, বিশ্বের মোট ফুটবলের প্রায় ৭০ শতাংশই এখানে শিয়ালকোটের কারখানাগুলোতে উৎপাদন করা হয়। প্রতিদিন এখানে প্রায় তিন লাখেরও বেশি ফুটবল তৈরি হয় এবং পৃথিবীর নানা প্রান্তে সেগুলি পাঠানো হয়। বিশেষ করে, বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের বছরের সময়ে এই সংখ্যা চমকপ্রদভাবে বৃদ্ধি পায়; বিশ্বকাপের মৌসুমে এখানে প্রায় চার কোটি ফুটবল রপ্তানি করা হয়।
অবশ্য, মজার বিষয় হলো, পাকিস্তান ফুটবল দল এখনও পর্যন্ত কখনো ফিফা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলতে গিয়ে সফলতা অর্জন করতে পারেনি। তবে গত ৪৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে সবাইকে মুগ্ধকারী বলগুলো প্রতিটি বিশ্বকাপ আসরের সময় শিয়ালকোট থেকেই উৎপন্ন হয়। বিশেষ করে ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত শিয়ালকোটের ‘ফরোয়ার্ড স্পোর্টস’ কোম্পানিটি বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের অনন্য অবস্থানে নিয়ে গিয়েছে। ২০১৪ সালের ব্রাজুকা, ২০১৮ সালের টেলস্টার ১৮, ২০২২ সালের আল রিহলা এবং ২০২৬ সালের আসরের ট্রায়ন্ডা; টানা চারটি বিশ্বকাপে ব্যবহৃত অফিশিয়াল ম্যাচ বল তৈরির দায়িত্ব পালন করেছে এই শহরের দক্ষ কারিগররা।
এভাবে, একদিকে দেশের জাতীয় ফুটবল দলের বৈশ্বিক মঞ্চে না থাকার আক্ষেপ রয়েছে, অন্যদিকে বিশ্বের প্রতিটি বড় ফুটবল টুর্নামেন্টের অবিচ্ছেদ্য অংশ থাকার বৈপরীত্য শিয়ালকোটকে দিয়েছে একটি অদ্ভুত পরিচিতি। খেলোয়াড়দের পায়ের জাদুর মাধ্যমে মাঠে গোল আসলেও, সেই জাদুর কারিগর হিসেবে নেপথ্যে কাজ করছে পাকিস্তানের এই শহর। ফুটবল বিশ্বের অঘোষিত এই ‘কারখানা’ আজ বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে একটি অনন্য এবং গর্বিত নাম হয়ে উঠেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন