প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিরাজগঞ্জে কথিত ভুয়া ডাক্তার হিসেবে পরিচিত নাজমুল ইসলাম মিঠুকে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছেন। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ মাসের কারাদ-ের আদেশও দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে সিরাজগঞ্জের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রুহুল আমিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে এ দ-াদেশ প্রদান করা হয়।
এ বিষয়ে জানা গেছে, মামলার নম্বর ৯৬/২০২৬। মামলায় প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সিরাজগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. তাসলিমা জান্নাত। বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর ২২ ধারায় নাজমুল ইসলাম মিঠুকে দোষী সাব্যস্ত করে ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদ- এবং পাঁচ মাসের কারাদ-ের আদেশ দেওয়া হয়।
নাজমুল ইসলাম মিঠু সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নের আব্দুল লতিফের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে ‘মিঠু ডাক্তার’ নামে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকের স্বীকৃত ডিগ্রি বা বৈধতা ছাড়াই তিনি রোগী দেখছেন এবং চিকিৎসার নামে অর্থ আদায় করছেন।
এর আগে চলতি বছরের ৯ মার্চ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এক অভিযানে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এহসান আহমেদ খান কথিত ভুয়া ডাক্তার নাজমুল ইসলাম মিঠুকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদ- দিয়েছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মিঠু প্রতিদিন প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন রোগী দেখতেন এবং রোগীপ্রতি ফি নিতেন। স্থানীয়দের দাবি, এতে প্রতিদিন প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় করতেন তিনি। এছাড়া, তার নিজস্ব ফার্মেসি থেকে প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধ কিনতে রোগীদের বাধ্য করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ফার্মেসি থেকে মাসে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা আয় করতেন মিঠু।
রোগী রহিমা বেগম বলেন, "ওষুধ কেনার টাকা জোগাড় করতে না পেরে বাড়ি বিক্রির টাকা দিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১ থেকে ২ হাজার টাকার ওষুধ কিনতে হয়।"
আরেক রোগী আলতাফ অভিযোগ করে বলেন, "বুকের ব্যথা নিয়ে মিঠুর কাছে গেলে তার ফার্মেসি থেকে জ্বর ও মাথাব্যথার ওষুধ দেওয়া হয়। এতে ওই ব্যক্তির চিকিৎসক পরিচয় নিয়ে তার সন্দেহ হয়।"
এদিকে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে কয়েকজন রোগীর প্রেসক্রিপশন পর্যালোচনা করা হলে জানা যায়, মিঠুর কোনো স্বীকৃত চিকিৎসা ডিগ্রি নেই এবং তার প্রেসক্রিপশন দেওয়ার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন