প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করার জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়াতে কাজ করছে। মিয়ানমারের ওপর চাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশ দেশটির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন অব্যাহত রেখেছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, চীনসহ বিভিন্ন দেশের সহযোগিতায় এ চাপ বৃদ্ধি করার চেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে তিনি এসব তথ্য জানান।
মিয়ানমারের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা নিয়ে প্রদত্ত তথ্যে বাংলাদেশ একমত নয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত তাঁর সরকারের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাসও দিয়েছেন। যদিও মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তবে ওই প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলছে।
বাংলাদেশ চায় যে, এ প্রক্রিয়াটি দ্রুত শেষ হোক।
শামা ওবায়েদ বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজস্ব পরিচয় রয়েছে এবং সেই পরিচয় নিয়েই তাদের নিরাপদ এবং স্বাভাবিক পরিবেশে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। বাংলাদেশ মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিয়েছে এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসনই সরকারের লক্ষ্য।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক চাপের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে নয়, প্রধানমন্ত্রী তাঁর চীন সফরের সময়ও এ বিষয়ে চীনের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন।
চীন মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে। যদিও সব আলোচনা গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি, তবে বাংলাদেশ সবসময়ই বলেছে যে, মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের আসা শুরু হলেও এখনো সমস্যার সমাধান হয়নি। প্রথম তিন-চার বছরের মধ্যে সমাধান হলে পরিস্থিতি এত জটিল হতো না। সময়ের সাথে সাথে মিয়ানমারের পরিস্থিতি জটিল হয়েছে এবং সংকটও আরো ঘনীভূত হয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু কূটনৈতিক ভাষায় কথা বলাই যথেষ্ট নয়, বিষয়টিকে কার্যকর পদক্ষেপে পরিণত করতে হবে। আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক আদালতের রায়সহ বিভিন্ন বিষয়কে কাজে লাগিয়ে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভূরাজনৈতিক এবং আঞ্চলিক বাস্তবতা বিবেচনার ভিত্তিতে কূটনৈতিক কার্যক্রম সাজানো হচ্ছে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে গঠিত জাতীয় কমিটিতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি শুধু নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের নিয়ে নয়; বরং স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও কমিটিতে রয়েছেন। তবে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি প্রয়োজন।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কৌশল পরিবর্তন হয়েছে কি না—এ প্রশ্নে শামা ওবায়েদ বলেন, কৌশলগত পরিবর্তন অবশ্যই ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর অধিক জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। সেইসাথে আগের উদ্যোগগুলোও অব্যাহত রয়েছে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আল-কায়েদার সেল গঠনের চেষ্টার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা উপাত্ত নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে তিনি একমত হয়ে বলেন, বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে কোন নতুন তথ্য পাওয়া গেছে কিনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, তাঁর কাছে এ বিষয়ে কোনো আপডেট নেই। সফর চূড়ান্ত হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হবে।
ভারতের পক্ষ থেকে মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যেন না যায় এমন কোন অনুরোধ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন