প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরানোর জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা বড় ধরনের গতি লাভ করেছে। সব ধরনের অনিশ্চয়তা ও জটিলতা কাটিয়ে, একটি টেকসই আঞ্চলিক চুক্তির বিষয়ে মুখোমুখি আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের উদ্ধৃতি দিয়ে, আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি ওয়াশিংটন ও তেহরানের অন্তর্বর্তী চুক্তিকে একটি স্থায়ী রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে অনেকাংশে সহজ করেছে। এর আগে, দুই দেশের মধ্যে চলা তীব্র উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত এবং তেল সরবরাহ স্থিতিশীল করার আলোচনা গভীর অনিশ্চয়তার মুখোমুখি করেছিল। মূলত, শেষ মুহূর্তের এই সমঝোতা সেই ধোঁয়াশা কাটাতে একটি বড় ভূমিকা পালন করছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন), লেবাননে ইসরায়েল এবং ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মাঝে চলা লড়াইয়ের জেরে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ড সফর বাতিল করেন। এর ফলে দুই দেশের বৈঠক নিয়ে একপ্রকার স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। তবে, সেখানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন। এছাড়া, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও সেখানে অবস্থান করছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শনিবার (২০ জুন) সুইজারল্যান্ড পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, দুই পক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই সফর স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে টেকসই ও প্রযুক্তিগত আলোচনার সূচনা করবে। তবে, বিশেষ দূত উইটকফের এই সফরের বিষয়ে হোয়াইট হাউস কর্তৃক এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
অন্যদিকে, একজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় স্থানীয় সময় বিকেল চারটায়। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের সহায়তায় এই চুক্তি চূড়ান্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। হিজবুল্লাহর দুটি সূত্র এবং ইসরায়েলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও রয়টার্সের কাছে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, হিজবুল্লাহ যদি আমাদের ওপর হামলা না চালায়, তবে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো যুদ্ধ হবে না। তবে, তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইসরায়েল তাদের উত্তর সীমান্ত সংলগ্ন দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত এলাকা থেকে এখনই সেনা প্রত্যাহার করবে না।
লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রথম ঘণ্টাতেই ইসরায়েল অন্তত এক ডজন বিমান হামলা চালালেও বিকেল পাঁচটার পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত হয়ে গিয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঠিক আগে চালানো ইসরায়েলি হামলায় ৪৭ জন নিহত ও ৯৭ জন আহত হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, লেবাননে সর্বশেষ এক অভিযানে তাদের চার সেনা প্রাণ হারিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন