প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বর্তমানে সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরের কারাগারে অন্তত সাড়ে সাত হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন, এমন তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
শুক্রবার সৌদি আরবে হুথিদের হামলায় নিহত বাংলাদেশি শাহেদ আহম্মদের লাশ হস্তান্তরের সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।
প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় আমাদের কাছে একটি তালিকা পাঠায়। আমাদের নাগরিকেরা বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডিত হয়ে কারাগারে রয়েছেন—এই বিষয়ে তারা আমাদের অবহিত করে। আমাদের কাছে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি সেখানে কারাগারে অবস্থান করছেন।
সম্প্রতি মক্কার এক মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য না পাওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যে দুজন বাংলাদেশির শিরচ্ছেদ করা হয়েছে, তাদের ব্যাপারে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য আমাদের দেওয়া হয়নি।
গত ১৪ অক্টোবর নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর দেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে এই সাজা কার্যকরের আগে বিষয়টি বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। সংবাদমাধ্যমে খবর আসার পর সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত তথ্য ও রায়ের কপির জন্য চিঠি পাঠায় জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট।
পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা সৌদি সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছি রায়ের কপির জন্য। রায়ের কপি পেলেই আমরা জানতে পারব আসলে কী ঘটনা ঘটেছিল। পাশাপাশি ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকেও এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
স্থানীয় আইনি কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক দেশের নিজস্ব বিচারব্যবস্থা রয়েছে এবং সেই অনুযায়ী তারা সিদ্ধান্ত নেয়। তবে কোনো বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে এ ধরনের সাজা হলে তা সংশ্লিষ্ট দেশকে জানানো প্রয়োজন। আমরা বিস্তারিত জানতে চাই, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যায়। এ জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তবে আমাদের কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বিদায়ী আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালের দিকেও ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, যাদের দুর্ভাগ্যবশত শিরচ্ছেদ হয়েছে, তাদের ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৩ সালে। ২০২৩ সালে কারা ক্ষমতায় ছিল? তার পর এল অন্তর্বর্তী সরকার, তাদের সময় গেছে দেড় বছর। আর আমাদের বিএনপি সরকার গঠিত হয়েছে মাত্র ছয় মাস আগে। এই ছয় মাসের মধ্যে এই তথ্য আমাদের দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও যোগ করেন, ঘটনাটি ২০২৩ সালের হলেও বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর যখনই বিষয়টি জানতে পেরেছে, তখনই পদক্ষেপ নিয়েছে। আমাদের নাগরিকদের রক্ষা করতে আমরা শতভাগ চেষ্টা করব। সৌদি সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।
প্রবাসীদের যেকোনো সেবার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস কিংবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জানানোর পরামর্শ দেন প্রতিমন্ত্রী। সেবাদানে অবহেলা বা ঘাটতি পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন