প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত বুকাভু শহরে একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে অন্তত ২৯ জনের মৃত্যু ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আগুন দুটি স্কুল এবং আশপাশের আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার কারণে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এএফসি-এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মুখপাত্র লরেন্স কানিউকা জানান, নিহতদের মধ্যে ১৯ জন মেয়ে এবং পাঁচজন ছেলে রয়েছে। এ ছাড়া, আহত হয়েছে অন্তত ২৯ জন, যাদের অনেকের অবস্থা গুরুতর।
জাতিসংঘ পরিচালিত সম্প্রচারমাধ্যম রেডিও ওকাপির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে দক্ষিণ কিভু প্রদেশের রাজধানী বুকাভুর চিমপুন্ডা এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। দ্রুত আগুন উজামা প্রাইমারি স্কুল, ফুরাহা সেকেন্ডারি স্কুল এবং আশপাশের একটি বসতিতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন ও ধোঁয়ার কারণে বহু শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়।
দক্ষিণ কিভুর উপ-গভর্নর দুনিয়া মাসুমবুকো বুয়েঙ্গে রয়টার্সকে জানান, আগুনের ফলে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রায় ৩০০টি কাঠের তৈরি ঘর পুড়ে গেছে।
স্থানীয় কর্মকর্তা প্যাট্রিস বুদুগে এএফপিকে জানান, আগুন লাগার পর স্কুলগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে বের হওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হলে অনেকে একে অপরের ওপর পড়ে যায়। এর ফলে কয়েকজন পদদলিত হয়ে মারা যায় এবং অনেকে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।
এএফসি-এম২৩ এর তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ২১ জনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। গুরুতর আহত ১৭ জন কাদুতু জেনারেল হাসপাতালে এবং চারজন বুকাভু প্রাদেশিক জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় একটি ক্লিনিকের নার্স ক্রিস্টোফ জিগাশানে জানান, তাদের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী ও কয়েকজন শিক্ষককে আনা হয়েছিল। অধিকাংশই ধোঁয়ার কারণে গুরুতর শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। কিছু শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলেই মারা যান, এবং কয়েকজন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর প্রাণ হারান।
আল জাজিরার যাচাই করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, আগুনে একের পর এক বাড়ি জ্বলতে থাকে এবং পরে শিখা দুটি স্কুলে পৌঁছে যায়।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, খনিজ সম্পদসমৃদ্ধ পূর্ব ডিআর কঙ্গোর বিস্তীর্ণ এলাকা দখলের অভিযানের অংশ হিসেবে রুয়ান্ডা-সমর্থিত এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বুকাভু শহরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।
তবে এই আগুনের সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক সময়েও বুকাভুতে একাধিক আগুনের ঘটনা ঘটেছে। গত ৬ সেপ্টেম্বরের একটি আগুনে ৪৫টির বেশি বাড়ি পুড়ে যায়।
এএফসি/এম২৩ জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত মোতায়েন করা হয়েছিল এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন