প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমি আমার নিজের ইচ্ছায় মৃত্যু মেনে নিচ্ছি। অযথা কাউকে যেন হয়রানি না করা হয়।’
রোববার (১৪ জুন) বরগুনার তালতলী থানার ব্যারাকে আত্মহত্যার আগে কনস্টেবল মো. ফারুক হোসেন গাজী এ কথা চিরকুটে লিখে যান।
চিরকুটে ফারুক গাজী আরও উল্লেখ করেছেন, ‘আমার অনুরোধ বাড়ির কাছে দয়া করে জানাবেন যে, সে স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেছে। আমার ডেট সার্টিফিকেট সঙ্গে পাঠিয়ে দেবেন। বাড়ির লোকজন জানলে তারা কোথায় আসবে, তা নিশ্চিত করে জানাবেন, যেন তারা হয়রানি না হয়। নারীরা যেন না আসেন দয়া করে বলে দেবেন।’
এর আগে, সকাল ৯টার দিকে, বরগুনার তালতলী থানার ব্যারাক থেকে ওই পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। চিরকুটে মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী না করার বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও আত্মহত্যার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ লেখা ছিল না বলে জানায় পুলিশ।
নিহত মো. ফারুক হোসেন গাজী তালতলী থানা পুলিশের কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি ঝালকাঠী জেলার রাজাপুর উপজেলার আংগারিয়া গ্রামের রতন আলী গাজীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, ফারুক হোসেন গাজী ডিউটি শেষ করে সকাল ৮টার দিকে থানার ব্যারাকে যান। এরপর তিনি ওই ব্যারাকে কীটনাশক অথবা গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন। এতে ফারুক অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে ব্যারাকে থাকা অন্য পুলিশ সদস্যরা টের পেয়ে দ্রুত তাকে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসক ফারুককে মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়াও ফারুক গাজীর কক্ষ থেকে মৃত্যুর আগে লিখে রাখা চার পৃষ্ঠার একটি চিরকুট উদ্ধার করে পুলিশ।
আমতলী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘সকাল ৯টার দিকে থানার তদন্ত অফিসার জানতে পারেন যে একজন পুলিশ সদস্য আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। এরপর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ইসিজি করে তার মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত করেন। পুলিশ সদস্য ফারুক গাজীর আত্মহত্যার রহস্য কি তা তদন্তের পরে বলা যাবে। তবে তিনি যে চিরকুট লিখেছেন তাতে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা নেই।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন