প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় রেকর্ডীয় ভূমির মালিকদের শান্তিপূর্ণ চাষাবাদে বাধা, ভয়ভীতি, হামলা ও হয়রানির অভিযোগে ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে কয়েক হাজার ভুক্তভোগী পরিবার মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনের পর তারা সংশ্লিষ্ট এবং স্থানীয় মন্ত্রী ও পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসকের বরাবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর মাধ্যমে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। এই মানববন্ধন বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলার জে.এল. নং-৯৬ চরভূপেন্দ্র, জে.এল. নং-৯৭ ভোলাইশিংয়ের চর ত্রৈলোক্য এবং জে.এল. নং-৯৮ পাঁচখালী মৌজার রেকর্ডীয় ভূমির মালিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা এতে অংশ নেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী সবাই ধানের অঙ্কুরিত বীজভর্তি ঝুড়ি প্রদর্শন করে জানান যে, ভূমিদস্যুদের বাধার কারণে সময়মতো বীজ রোপণ করতে না পারায় তাদের প্রায় ৪০ মণ ধানের বীজ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্মারকলিপিতে ভুক্তভোগীরা উল্লেখ করেন, নদীভাঙনের পর পুনরায় চর জেগে উঠলে তারা আইন অনুযায়ী নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করেন এবং ওই জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ ও কৃষিকাজ করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু কিছু প্রভাবশালী ভূমিদস্যু, দালাল ও সন্ত্রাসীচক্র অবৈধভাবে জমি দখল করার উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে তাদের বৈধ চাষাবাদে বাধা সৃষ্টি করছে। প্রতিবাদ করলে তারা মারধর, প্রাণনাশের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগীরা জানান, তাদের জমিতে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর ফলে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং হাজারো পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, দশমিনা সদরের মোল্লা পরিবারের রুহুল মোল্লার নেতৃত্বে সৈয়দ জাফর, আরজবেগী এলাকার জাহিদ শিকদার, তহিদ শিকদার, এনায়েত গাজী ও সাকুসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে চরাঞ্চলের জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা এবং শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, "আমরা রেকর্ডীয় ও প্রকৃত ভূমির মালিক। অথচ আজ নিজেদের জমিতে ধানের বীজ রোপণ করতে পারছি না। প্রায় ৪০ মণ ধানের বীজ নষ্ট হওয়ার পথে। ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্যে হাজারো পরিবার আজ নিঃস্ব হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরাপদে চাষাবাদের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।"
তারা অভিযোগ করেন, কয়েকদিন আগে প্রতিপক্ষের একটি মানববন্ধনের পর থেকে তাদের ওপর হুমকি-ধমকি আরও বেড়েছে। অনেকেই ভয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা এবং বাজারে যেতেও সাহস পাচ্ছেন না। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা "সন্ত্রাসের কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও, অবৈধভাবে জমি বিক্রি করে তরমুজ চাষ করতে দেওয়া যাবে না, আমরা আমাদের জমিতে ধানের বীজ রোপণ করতে চাই" এসব স্লোগান দেন। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, রেকর্ডীয় মালিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈধ মালিকদের শান্তিপূর্ণভাবে জমি ভোগদখল ও কৃষিকাজের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন