প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস এবং জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিজেপির বিরুদ্ধে সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়ার পরও কংগ্রেসের সাড়া না পাওয়ার কারণে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা বা জোটে অংশগ্রহণ করবে না তৃণমূল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, সংসদে কিংবা বাইরের রাজনৈতিক সমঝোতার পথে তৃণমূল আর হাঁটবে না। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট ভাগাভাগি ঠেকানোর জন্য কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছিল।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপালকে ফোন করে নন্দীগ্রাম আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। তাছাড়া রেজিনগরে তৃণমূল প্রার্থীকে কংগ্রেস সমর্থন করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে কংগ্রেস সেই প্রস্তাবে সম্মতি জানায়নি।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, যদি তৃণমূল সত্যিই জোটে আগ্রহী হয়, তাহলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর দুই আসনেই কংগ্রেস প্রার্থীদের সমর্থন করতে হবে। তিনি এও জানিয়েছেন, সেখান থেকেই ভবিষ্যতে জোট নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে।
এই অবস্থানের ফলে তৃণমূলের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছেন, কংগ্রেস যদি শুধুমাত্র তাদের স্থানীয় নেতাদের মতামত অনুযায়ী চলে, তাহলে সংসদে কংগ্রেসের সঙ্গে একযোগে চলার কোনো বাধ্যবাধকতা তৃণমূলের নেই।
এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে সংসদে ও বাইরে কংগ্রেসের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা না করার বার্তা প্রকাশিত হয়। এদিকে, দুই দলই ইতিমধ্যে দুই আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের প্রার্থী ভূমি আন্দোলনের নেতা মিলন প্রধান এবং রেজিনগরে মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি। কালীঘাট তৃণমূলের হয়ে নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ফলে বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী ভোট একত্রিত করার যে সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল, তা আপাতত ভেস্তে গেছে। বরং দুই আসনেই তৃণমূল ও কংগ্রেস আলাদাভাবে লড়াই করবে। এর সঙ্গে তৃণমূলের দুই শিবিরের প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েনও রয়েছে। ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একাধিক সমীকরণের পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।
কংগ্রেসের বক্তব্য, আগে দুই আসনেই তৃণমূল তাদের প্রার্থীদের সমর্থন করুক। অন্যদিকে, তৃণমূলের বক্তব্য, জোটের জন্য উদ্যোগ নেওয়ার পরও কংগ্রেসের প্রত্যাখ্যানের ফলে ভবিষ্যতের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। ফলে জাতীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন সময়ে পাশাপাশি থাকা দুই দলের পশ্চিমবঙ্গের সম্পর্কও নতুন মোড় নিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন