প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার হোজ্জাতোলেসলাম হোসেইন তাইব মন্তব্য করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামরিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে রাজনৈতিক, সামাজিক ও আঞ্চলিক চাপ প্রয়োগের কৌশল গ্রহণ করেছে। তিনি দাবি করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল বর্তমানে তাদের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থার সম্মুখীন হয়েছে।
শনিবার কোম শহরে দেওয়া এক ভাষণের সময় তিনি ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল অন্তর্ভুক্ত করেন। তাইব বলেন, শত্রুপক্ষ প্রথমে ভেবেছিল যে, ইসলামী বিপ্লবের নেতা ও সামরিক এবং প্রতিরোধ অবকাঠামোর ওপর হামলা চালিয়ে ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে পতনের দিকে ঠেলে দেওয়া সম্ভব হবে।
কিন্তু তার এই ভুল হিসাব প্রমাণিত হয়েছে, এমনটাই বলেন তিনি। তাইব দাবি করেন, বিশ্বাসের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত এবং শহীদ নেতাদের রক্তে শক্তিশালী এই আন্দোলন হামলার কারণে বিলীন হয়নি; বরঞ্চ এটি টিকে থাকার পাশাপাশি আরও বিস্তৃত হয়েছে।
তাইবের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুপক্ষের তীব্র সামরিক অভিযান চলে। হামলায় প্রতিদিন ২০০টি বিমান পর্যন্ত ব্যবহৃত হয় এবং নতুন অস্ত্র ও বোমার পরীক্ষা চালানো হয়। এই সঙ্গে বি-১ ও বি-৫২ বোমারু বিমানও মোতায়েন করা হয় এবং সমুদ্র থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।
কিন্তু ইরানের জনগণ প্রতিরোধ অব্যাহত রেখে নিজেদের অবস্থানে অটল রয়েছে—এটি বুঝতে পারার পর শত্রুপক্ষ শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির দিকে চলে যায়, এমনটাই দাবি করেন তাইব।
তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধবিরতি চাইনি; তারাই যুদ্ধবিরতির দিকে এগিয়ে এসেছিল।’ তাইব দাবি করেন, সমঝোতার পরও অপর পক্ষ ৬০ দিন পর্যন্ত চুক্তি মানেনি এবং তাদের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে।
তাইব বলেন, এরপর শত্রুপক্ষ নৌ অবরোধের কৌশল গ্রহণ করে। তাদের ধারণা ছিল যে, এর মাধ্যমে ইরানের জনগণকে দুর্বল করা যাবে, অভ্যন্তরীণ বিভেদ উসকে দেওয়া যাবে এবং নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থান পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হবে।
মার্কিন একটি জরিপের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৭১ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে ভুল করেছেন।
তাইবের মতে, ওয়াশিংটনের বর্তমান কৌশল হচ্ছে যুদ্ধের বিষয়টি আড়ালে ঠেলে দেওয়া, সামাজিক অসন্তোষ সৃষ্টি করা, সামাজিক ইস্যুকে নিরাপত্তা ইস্যুর সঙ্গে যুক্ত করা এবং ইরানের অভ্যন্তরে মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়া।
তিনি আরও বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি এবং এ অঞ্চলে এমন জোট গঠনের চেষ্টা করছে, যা ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে।
তাইবের দাবি, সরাসরি যুদ্ধে মার্কিন ভূমিকা বজায় রাখার পরিবর্তে এখন ইরানের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক জোটগুলোকে সক্রিয় করার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। তবে তিনি বলেন, ইরান ও আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্র সফল হয়নি।
তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র এখন তাদের ‘ভুল হিসাব’ বুঝতে পেরেছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে পুরো অঞ্চলকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টায়ও ব্যর্থ হয়েছে। সূত্র: তাসনিম নিউজ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন