প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় কিছু ছবি যুক্ত ও সরানোর ঘটনাকে ইতিহাস বিকৃতির প্রচেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। সংগঠনটি এই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী এবং সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ একযোগে বলেন, ‘ডাকসুতে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি যুক্ত করা হয়েছে। অথচ তিনি বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বাঙালিদের ওপর উর্দু ভাষা চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) দাঁড়িয়ে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, শুধু উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অকুতোভয় ছাত্রসমাজ জিন্নাহর সেই চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সংঘটিত হয় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন। যা পরবর্তীতে ঊনসত্তরের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি গড়ে দেয়। ঐতিহাসিকভাবে ডাকসু ভাষা আন্দোলনসহ স্বাধীনতা সংগ্রামের গোটা কালপর্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’
ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের পর সমালোচনার মুখে ডাকসু নেতারা দাবি করেছেন যে, ভাষা আন্দোলনের বিরুদ্ধে জিন্নাহ যে অবস্থান নিয়েছিলেন, সেটি দেখানোর উদ্দেশ্যে এই ছবি যুক্ত করা হয়েছে। ছাত্রশিবির সমর্থিত ডাকসু এবং স্বয়ং ছাত্র শিবিরের জিন্নাহ্ নিয়ে সাম্প্রতিক অবস্থান ও বক্তব্য, ‘৪৭ পরবর্তী ‘৭১ পর্যন্ত এদেশের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে ভিন্নভাবে তুলে ধরার প্রচেষ্টা’— এই ব্যাখ্যাকে সমর্থন করে না।
বাস্তবতা হলো, ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতার সংগ্রামে ডাকসুর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা এবং ছাত্রসমাজের লড়াইয়ের ইতিহাসের বিরুদ্ধে সংগ্রহশালাকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।
ছাত্রফ্রন্ট স্বাধীনতা সংগ্রামে ও পরবর্তীতে শেখ মুজিবের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মূল্যায়ন হতে পারে, কিন্তু পুরো আন্দোলন থেকে তাঁকে গায়েব করে দিলে ইতিহাসকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব নয়।
একই সঙ্গে সংগঠনটি জানাচ্ছে, সংগ্রহশালায় ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি যুক্ত করার কোনো ঐতিহাসিক কারণ নেই বলে তারা মনে করেন।
নেতারা ইতিহাস বিকৃতি, ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের ভূমিকা মুছে ফেলা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধকে কালিমালিপ্ত করার অপপ্রয়াসের বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন