প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজপরিবারের আর্থিক হিসাব সম্পর্কে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস ব্যক্তিগত কর সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করতে যাচ্ছেন। শনিবার বাকিংহাম প্যালেস যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়েছে।
লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানাচ্ছে যে, ব্রিটিশ রাজা বা রানি আইনগতভাবে কিছু কর পরিশোধ থেকে অব্যাহতি পান, কিন্তু তারা কয়েক দশক ধরে স্বেচ্ছায় কিছু কর প্রদান করে আসছেন।
তাদের করের হিসাব প্রকাশের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, তবে রাজপরিবারের সাবেক সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সাথে সাম্প্রতিক বিতর্কের কারণে রাজপরিবারের আর্থিক বিষয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাকিংহাম প্যালেসের এক মুখপাত্র প্রেস অ্যাসোসিয়েশনকে জানিয়েছেন, রাজা চার্লস ব্যক্তিগত কর সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশকারী প্রথম ব্রিটিশ সম্রাট হতে যাচ্ছেন।
তিনি বলেছেন, 'সিংহাসনে আরোহণের পর থেকে যে পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে, এর অংশ হিসেবে এবং রাজার নিজস্ব ইচ্ছাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।'
তিনি আরও যোগ করেছেন, 'রাজপরিবারের আর্থিক ব্যবস্থার সব দিক এমনভাবে ব্যাখ্যা করা আমাদের লক্ষ্য, যাতে বিষয়টি আরও স্পষ্ট ও সহজবোধ্য হয়। একই সঙ্গে এর ঐতিহাসিক ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপটও তুলে ধরা যায়। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, আমরা আধুনিকায়ন ও পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখছি।'
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার প্রকাশিতব্য বার্ষিক রাজকীয় আর্থিক হিসাবের অংশ হিসেবে চার্লসের কর-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হবে। ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী, রাজা বা রানিকে আয়কর, মূলধনী মুনাফা কর এবং উত্তরাধিকার কর দিতে হয় না।
১৯৯৩ সাল থেকে প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সময় থেকে স্বেচ্ছায় আয়কর ও মূলধনী মুনাফা কর পরিশোধ করা হয়ে আসছে। ২০২২ সালে সিংহাসনে আরোহণের আগে প্রিন্স অব ওয়েলস হিসেবে চার্লসও কত কর প্রদান করেছেন, তা প্রকাশ করেছিলেন।
মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সাথে চার্লসের ছোট ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সম্পর্কের তথ্য প্রকাশের পর থেকে রাজপরিবার নিজেদের ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।
চলতি মাসে সরকারি নিরীক্ষকদের তথ্যমতে, অ্যান্ড্রু দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে একটি প্রাসাদের জন্য নামমাত্র ভাড়া পরিশোধ করে সেখানে বসবাস করেছেন এবং একই সময়ে ওই সম্পত্তির কটেজগুলো সাবলেট দিয়ে ব্যক্তিগত আয়ও নিয়েছেন।
রাজপরিবারের সরকারি দায়িত্ব পালনের ব্যয় নির্বাহে যুক্তরাজ্যের ট্রেজারি প্রতি বছর 'সোভেরেইন গ্রান্ট' নামে একটি বরাদ্দ দেয়।
রাজা চার্লসের একাধিক ব্যক্তিগত আয়ের উৎসের একটি হলো ঐতিহাসিক ডাচি অব ল্যাঙ্কাস্টার এস্টেট, যা ভূমি, স্থাবর সম্পত্তি এবং বিনিয়োগ নিয়ে গঠিত একটি বৃহৎ ও বহুমুখী সম্পদভান্ডার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডাচি অব ল্যাঙ্কাস্টার এস্টেট থেকে রাজা চার্লসের আয় হয়েছে ২ কোটি ৬৮ লাখ পাউন্ড।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন