প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রিটেনের কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী ডেভিড হকনি মারা গেছেন। তিনি মৃত্যুবরণ করেন গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখে নিজ বাসভবনে।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৮৮ বছর। আর মাত্র এক মাস পরেই তিনি ৮৯তম জন্মদিনে পা দিতেন।
শুক্রবার (১২জুন) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানিয়েছে। ১৯৩৭ সালে ইংল্যান্ডের ব্র্যাডফোর্ডে জন্মগ্রহণ করা হকনি ২০শ ও ২১শ শতকের অন্যতম প্রভাবশালী সমকালীন শিল্পী হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি অর্জন করেন।
১৯৬০-এর দশকে পপ আর্ট আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা হিসেবে তিনি প্রথম খ্যাতি লাভ করেন। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার সুইমিং পুল, উজ্জ্বল রোদ ও আধুনিক জীবনযাত্রাকে কেন্দ্র করে আঁকা তাঁর চিত্রকর্মগুলো বৈশ্বিক শিল্পাঙ্গনে ব্যাপক সমাদৃত হয়। তাঁর বিখ্যাত কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘আ বিগার স্প্ল্যাশ’ এবং ‘পোর্ট্রেট অফ অ্যান আর্টিস্ট (পুল উইথ টু ফিগারস)’।
ছয় দশকেরও বেশি সময়ের দীর্ঘ কর্মজীবনে হকনি নিজেকে শুধুমাত্র প্রথাগত চিত্রকলায় সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি ফটোকোলাজ, ডিজিটাল আর্ট, আইপ্যাডে আঁকা ছবি এবং থ্রিডি প্রযুক্তির ব্যবহারে শিল্পের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। শিল্পের নতুন মাধ্যম ও প্রযুক্তি নিয়ে তাঁর এই নিরন্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষা তাঁকে সমকালীন শিল্পের অন্যতম প্রধান উদ্ভাবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
হকনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি এক শোকবার্তায় বলেন: ‘হকনির উজ্জ্বল ও সহজেই চেনা যায় এমন অনন্য শিল্পকর্ম বহু প্রজন্মের শিল্পীকে অনুপ্রাণিত করেছে।’
লন্ডনের ‘টেট ব্রিটেন’ এর পরিচালক অ্যালেক্স ফারকুহারসন তাঁকে একজন ‘অসাধারণ সৃজনশীল ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন শিল্পী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন: ‘ডেভিড হকনি আমাদের দেখিয়েছেন কীভাবে চারপাশের পৃথিবীকে সম্পূর্ণ নতুন চোখে দেখতে হয়।’
২০১৮ সালে হকনির ১৯৭২ সালের মাস্টারপিস ‘পোর্ট্রেট অফ অ্যান আর্টিস্ট (পুল উইথ টু ফিগারস)’ নিউইয়র্কের এক নিলামে ৯০.৩ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছিল। সে সময় জীবিত কোনো শিল্পীর শিল্পকর্ম বিক্রির ক্ষেত্রে এটি ছিল একটি বিশ্বরেকর্ড।
উল্লেখ্য, শিল্পবিশ্বের কাছে ডেভিড হকনি শুধু একজন চিত্রশিল্পী ছিলেন না, বরং তিনি আধুনিক শিল্পের ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে বদলে দেওয়ার এক যুগান্তকারী স্রষ্টা। তাঁর রেখে যাওয়া কালজয়ী শিল্পকর্ম আগামী প্রজন্মের কাছে চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন