প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি এবং আরও দুজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, একজনের জন্য যাবজ্জীবন ও একজনের জন্য ২০ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আজ রোববার (২৮ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ এই রায় প্রদান করে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম এবং বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান (পলাতক), ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম (পলাতক) এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান (পলাতক)। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের আগেও চানখাঁরপুলের আরেকটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল। এছাড়া রামপুরা থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে (পলাতক) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে (গ্রেফতার) ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার একমাত্র গ্রেফতার আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে আজ বেলা ১১টা ২৪ মিনিটে কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালের এজলাসে হাজির করা হয়।
এর আগে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ট্রাইব্যুনালে রায় পড়া শুরু হয়। রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণ করে বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আদালত আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালনা করা হয়েছে। এমনকি পলাতক আসামিদের জন্য রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে তাদের সর্বোচ্চ আইনি সহায়তা দেয়া হয়েছে। রায় প্রদানকালে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করায় গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানান ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছিল। প্রথম অভিযোগটি ছিল, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকায় মো. নাদিম হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ। দ্বিতীয় অভিযোগ ছিল, একই দিন বনশ্রী এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেন নামের এক তরুণকে লক্ষ্য করে গুলি করে গুরুতর আহত করা। আর তৃতীয় অভিযোগটি ছিল, সেদিন বিকেলে বনশ্রী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু বাসিত খান মুসার মাথা ভেদ করে চলে যাওয়া গুলিতে তার দাদি মায়া ইসলামকে হত্যা করা।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩১ জুলাই এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে দাখিল করা হয়। প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে গত বছরের ৭ আগস্ট ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন। ১৮ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলাটিতে গত বছরের ২৩ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি শেষ হয়। এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়।
পরবর্তী সময়ে ট্রাইব্যুনাল গত ৪ মার্চ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করলেও প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন রায় ঘোষণা স্থগিত করা হয়েছিল। সবশেষ গত ১৫ জুন ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন (২৮ জুন) পুনর্ধার্য করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন