প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার মধ্যে বাণিজ্য সমঝোতার পরিবর্তে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের পথে হাঁটায়, দুই দেশেই এর প্রভাব পড়তে চলেছে। কানাডার গাড়ি, ইস্পাত ও কৃষিপণ্যের রফতানি যদি কমে, তাহলে দেশে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে ব্যাপক চাপ দেখাতে পারে। অন্যদিকে, পাল্টা শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি ব্যয় বাড়াতে, পণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। দুই দেশের টানাপোড়েনে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা ইউএসএমসিএ-এর ভবিষ্যত নিয়েও অন্ধকার দেখা দিয়েছে।
অতীতে এক ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা বর্তমানে বাণিজ্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ার ফলে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি আলোচনা থেকে সরে গিয়ে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিচ্ছেন। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কানাডা ২০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সমপরিমাণ শুল্ক বসাবে। এর আগেই শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র কানাডার ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করেছে।
পাল্টাপাল্টি শুল্কের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে দুই দেশের ব্যবসা এবং সাধারণ মানুষের ওপর। কারণ কানাডার রফতানির প্রায় ৭০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। ফলে যেহেতু গাড়ি, ইস্পাত এবং কৃষিপণ্যের মত গুরুত্বপূর্ণ খাতে রফতানি কমে যেতে পারে, সেহেতু উৎপাদন এবং কর্মসংস্থানে চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
অন্যদিকে, পাল্টা শুল্কের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে তা বিভিন্ন পণ্যের দামকেও প্রভাবিত করতে পারে। একই সঙ্গে, যদি কাঁচামাল এবং যন্ত্রাংশের সরবরাহব্যবস্থায় সংকট দেখা দেয়, তবে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিতে পারে।
বৃহৎ পরিসরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য যদি কমে যেতে থাকে, তাহলে কানাডীয় ব্যবসায়ীরা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নতুন বাজার খুঁজে নিতে পারে। এর ফলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক নির্ভরতা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির ওপর রাজনৈতিক চাপও বাড়তে পারে। শুল্কের কারণে যদি ব্যবসা, কর্মসংস্থান ও পণ্যের দামে চাপ সৃষ্টি হয়, তাহলে সরকারের কঠোর অবস্থানের প্রতি প্রশ্ন ওঠতে শুরু করতে পারে। সে চাপ সামলাতে নিজের অবস্থানে অনড় থাকার জন্য কার্নির জন্য এটি একটি বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।
বাণিজ্য বিরোধের ফলে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রেও কিছু প্রভাব দেখা যাচ্ছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানাচ্ছে। কানাডায় বসবাসকারী ব্যক্তিরা মার্কিন পণ্য বর্জন ছাড়াও বিভিন্ন প্রদেশের দোকান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি মদ সরিয়ে নিচ্ছেন।
একই সময়ে, দুই দেশের টানাপোড়েনে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা ইউএসএমসিএ-এর ভবিষ্যত নিয়েও নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, দুই দেশের মধ্যে এই টানাপোড়েন দীর্ঘস্থায়ী হলে, কয়েক দশকের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আবারও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন