প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাঙামাটি শহরের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র ঝুলন্ত ব্রিজ এলাকায় প্রকাশ্যে দেশি ও বিদেশি মদ বিক্রির বিজ্ঞাপন সংবলিত সাইনবোর্ড টাঙানোর কারণে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাইনবোর্ডে মদ পাওয়ার বিস্তারিত তথ্যের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বরও দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে সেখানে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
জানা গেছে, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের অধীন পর্যটন বারের লিজ নেওয়া প্রতিষ্ঠান এইচ এম এন্টারপ্রাইজ ঝুলন্ত ব্রিজ এলাকায় এসব সাইনবোর্ড টাঙিয়েছে। সাইনবোর্ডগুলো ব্যস্ত পর্যটন এলাকায় দিনের বেলায় দৃশ্যমান হওয়ায় বিষয়টি দ্রুত মানুষের নজরে আসে।
যখন বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে, তখন রাঙামাটি কোতয়ালি থানার পক্ষ থেকে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। পরবর্তীতে পর্যটন করপোরেশনের ম্যানেজার আলোক বিকাশ চাকমা লোকজন দিয়ে সাইনবোর্ডগুলো খুলে ফেলেন।
এইচ এম এন্টারপ্রাইজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার পাপন বণিক জানান, তারা পর্যটন করপোরেশন থেকে বারটি লিজ নিয়েছেন। তিনি বলেন, "বিক্রি কম হওয়ায় গ্রাহকদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছিল।" তিনি দাবি করেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়েই সাইনবোর্ড দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, পর্যটন করপোরেশনের কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।
তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সরাসরি এই দাবিকে নাকচ করেছে। রাঙামাটির মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নাহিদ হাসান সৌরভ বলেন, "আমরা এ ধরনের কোনো অনুমতি দিইনি। এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাও হয়নি। যারা এটি করেছে, তারা অপরাধ করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ম্যানেজার আলোক বিকাশ চাকমা জানালেন, "পর্যটন করপোরেশনের পক্ষ থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কখনো করা হয়নি। লিজ নেওয়া প্রতিষ্ঠানটি নিয়মবহির্ভূতভাবে সাইনবোর্ড টাঙিয়েছে।"
এ বিষয়ে রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম বলেন, "এ ধরনের সাইনবোর্ড ঝোলানো পুরোপুরি আইনবহির্ভূত। এতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি মোটেও ভালো কিছু নয়।"
ঘটনার পর সাইনবোর্ডগুলো খুলে ফেলা হলেও অনুমতির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমতির দাবি করা হলেও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর তা অস্বীকার করেছে। সচেতন নাগরিকদের দাবি, শুধু সাইনবোর্ড খুলে ফেললেই বিষয়টির সমাধান হবে না। কী উদ্দেশ্যে পর্যটন এলাকার জনসম্মুখে মদ বিক্রির বিজ্ঞাপন টাঙানো হয়েছিল, তার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রচারণা রোধে কার্যকর নজরদারির দাবিও জানিয়েছেন তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন