প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিয়ংইয়ংয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বিশাল শীর্ষ সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে বৈঠক হওয়ার পরও সেখানে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে সম্পূর্ণ নীরবতা ছিল। বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের নীতি থেকে সরে আসা পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, উত্তর কোরিয়াকে পরমাণুমুক্ত করার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা সম্ভবত চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় যা পরমাণু অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের ওপর পরিচালিত হয়েছে, সেখানে দেখা যায় যে, ২০৩৫ সালের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ করার সম্ভাবনা মাত্র ৩ শতাংশ। গত তিন দশক ধরে চলা নানামুখী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পিয়ংইয়ং এখন প্রায় ৬০টি পরমাণু অস্ত্র এবং আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল ভাণ্ডার গড়ে তুলেছে।
নব্বইয়ের দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন এবং কোরীয় যুদ্ধের কোন আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তি না হওয়ায় তীব্র নিরাপত্তাহীনতা থেকে উত্তর কোরিয়া পরমাণু কর্মসূচির দিকে ঝুঁকে পড়ে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও, পরবর্তীতে উত্তর কোরিয়ার চুক্তিভঙ্গ এবং একের পর এক উসকানির মধ্যে জাতিসংঘ এবং আমেরিকা দেশটির ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে রাশিয়া এবং চীনের পরোক্ষ সহযোগিতা, জাতিসংঘের নজরদারিতে ভেটো দেওয়া এবং পিয়ংইয়ংয়ের নিজস্ব হ্যাকার নেটওয়ার্ক, কূটনৈতিক তৎপরতা ও চোরাচালান চক্রের কারণে এসব নিষেধাজ্ঞাগুলো কখনোই ফলপ্রসূ হয়নি। ফলস্বরূপ, দেশটির অর্থনীতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েনি এবং তারা নিজেদের পরমাণু সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ে উত্তর কোরিয়ার সেনা ও অস্ত্র পাওয়ার বিনিময়ে রাশিয়াও তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে।
এখন পরিস্থিতি এমন যে, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বা কোনো পূর্বশর্ত ছাড়া আলোচনায় বসে উত্তর কোরিয়াকে আর পরমাণুমুক্ত করা সম্ভব নয়। কারণ কিম শাসনব্যবস্থা তাদের অস্তিত্বের স্বার্থে এই পরমাণু সক্ষমতাকে মূল ঢাল হিসেবে বিবেচনা করে। এখন একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ হতে পারে উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আমূল পরিবর্তন বা দুই কোরিয়ার একত্রীকরণ।
সুতরাং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, সরাসরি নিরস্ত্রীকরণের পেছনে না ছুটে এখন প্রধানত সময়ক্ষেপণ কৌশলে যাওয়া উচিত। এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার ভেতরের নেতৃত্ব বা উত্তরসূরি নির্বাচন, অভিজাত শ্রেণির মধ্যে অর্থনৈতিক সমগুলনের ফাটল এবং আদর্শিক দুর্বলতা যাতে আরও প্রকট হওয়ার সুযোগ পায়, সেই অপেক্ষা করা দরকার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত প্রকাশ্যে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নীতি বজায় রাখা, যাতে পিয়ংইয়ং এর মাধ্যমে বৈধতা লাভ করতে না পারে, এবং একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলার জন্য আঞ্চলিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন