প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পেন্টাগন কংগ্রেসকে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অন্তত ৪ হাজার ৭১০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তার আগে এই ব্যয়ের হিসাব প্রকাশিত হলো। নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির হাতে আগামী দুই বছর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ থাকবে কি না, তা নির্ধারিত হবে।
বুধবার পেন্টাগন এক বিবৃতিতে জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া তহবিলের ৯৭ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ বা দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হয়েছে। গত জুলাইয়ে ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এ কর ও ব্যয়ের পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরা হয়েছিল। এই আইনটি চলতি বছরের শুরুর দিকে কার্যকর হয়েছিল।
নিউইয়র্ক টাইমসসহ বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধের ব্যয় অন্তত ৪ হাজার ৭১০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। কংগ্রেসের কর্মকর্তাদের কাছে পেন্টাগনের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এর মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত বোমা, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় সংগ্রহের জন্য সম্ভাব্য ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার ব্যয়ের হিসাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমানের জন্য ৭৬০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। নৌবাহিনীর প্রায় দুই ডজন যুদ্ধজাহাজ ও বিমানবাহী রণতরির জন্য ব্যয় হয়েছে ১৫০ কোটি ডলার। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সেনাদের কার্যক্রম সচল রাখতে স্থলবাহিনীর ব্যয় হয়েছে ২১০ কোটি ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তাঁরা বড় স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি এবং বিভিন্ন ছোট অগ্রবর্তী অবস্থানে দায়িত্ব পালন করছেন।
পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজ ও সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনে ৬১০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। এছাড়া ওই অঞ্চলে বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী সেনাদের পরিবহন ও সহায়তায় ৬৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং মার্কিন সেনাদের চিকিৎসাসেবায় আড়াই কোটি ডলারের কাছাকাছি ব্যয় হয়েছে।
কংগ্রেসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রান্সপোর্টেশন কমান্ডের ব্যয় হয়েছে ৯ কোটি ২২ লাখ ডলার। সাইবার সহায়তা কার্যক্রমে সাইবার কমান্ড ব্যয় করেছে ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
তবে এই হিসাবের বাইরে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো মেরামতের সম্ভাব্য ব্যয়। যুদ্ধজাহাজ ও উড়োজাহাজ চালাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানির খরচও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে যুদ্ধের প্রকৃত আর্থিক বোঝা আরও বাড়তে পারে।
যুদ্ধে ১৮ জন মার্কিন সেনার মৃত্যুর কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে পেন্টাগন। তবে ওয়াশিংটন পোস্ট ছয়জন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা অন্তত ২২। পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা হতাহত বিশ্লেষণব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৮৬৫ জন মার্কিন সামরিক সদস্য আহত হয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন