প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ককে শক্তিশালী, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এফবিসিসিআই এবং রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
আজ এফবিসিসিআই’র মতিঝিল কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-রাশিয়া বিজনেস ডায়ালগ’-এ এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
সমঝোতা স্মারকের মূল লক্ষ্য হলো উভয় দেশের ব্যবসায় উদ্যোগ, প্রতিষ্ঠান এবং সংস্থাগুলোর জন্য একটি অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশ সৃষ্টি করা। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনার উন্মোচনে পরস্পরের মধ্যে হালনাগাদ তথ্য বিনিময় করা। একই সঙ্গে, দুই দেশের কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণে যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়ন, বাণিজ্য মেলা, প্রদর্শনী, বিজনেস মিশন ও বিনিয়োগ ফোরাম আয়োজনের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ একসাথে কাজ করবে।
দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্য্ন্ডা ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল যৌথভাবে এই ডায়ালগের আয়োজন করে। এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো. ফজলুল হক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
স্বাগত বক্তব্যে এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার জন্য বাণিজ্য সম্প্রসারণের অসাধারণ সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বড় কোনো বাধা নেই বললেই চলে, তবে ছোট-খাটো যেসব বাধা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে যৌথভাবে দূরীকরণের উদ্যোগ নিতে হবে।
রাশিয়ান প্রতিনিধিদলের প্রধান ইলিয়া শেস্তাকভ অনুষ্ঠানে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্য পরিমাণের দিক থেকে বাংলাদেশ রাশিয়ার অন্যতম শীর্ষ অংশীদার। তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়া বাংলাদেশে কৃষি পণ্য, খাদ্য ও সারের সরবরাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও ই-গভর্নেন্সে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী। তবে এই বাণিজ্য সম্ভনা কাজে লাগাতে একটি টেকসই দ্বিপক্ষীয় পেমেন্ট অবকাঠামো গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের চাহিদা পূরণ, রেগুলেটরি পদ্ধতি সহজীকরণ, লজিস্টিকস এবং বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধাগুলো দূর করা অত্যন্ত জরুরি। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মিয়া সাত্তার, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. ইমাম আবু সাঈদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের জয়েন্ট সেক্রেটারি আয়নুর আক্তার পান্না, এমসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট কামরান টি. রহমান, এফবিসিসিআই’র সাবেক সহ-সভাপতি মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ, বারভিডার প্রেসিডেন্ট আব্দুল হক, বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আবুল হোসেন, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট হাসেন আলী, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এ. কে. এম হাবিবুর রহমান, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, এফবিসিসিআই’র সাধারণ পরিষদের সদস্যবৃন্দ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন