প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নব্বইয়ের দশকে বাংলা চলচ্চিত্রে নিজস্ব নির্মাণশৈলী ও গল্প বলার ভিন্নধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পরিচিতি অর্জন করেছিলেন পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার অমল রায় ঘটক। তার নির্মিত বেশ কিছু সিনেমা সে সময় দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করেছিল। সেই নির্মাতা আর আমাদের মধ্যে নেই। ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে শনিবার দুপুরে তিনি মারা গেছেন। তার মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন ভাই ও বাচিকশিল্পী অলোক রায় ঘটক।
অমল রায় ঘটক দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। সম্প্রতি তার কেমোথেরাপি প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। চিকিৎসায় সাড়া দিয়ে কিছুটা সুস্থও হয়ে উঠছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানতে হলো এই নির্মাতাকে।
নব্বইয়ের দশকে বাংলা বাণিজ্যিক সিনেমায় যখন অ্যাকশনধর্মী ছবির আধিপত্য ছিল, তখন ভিন্নধর্মী বিষয়বস্তু ও মননশীল গল্প নিয়ে কাজ করেছেন অমল রায় ঘটক। তার সিনেমায় পরিচিত তারকাদের পাশাপাশি টেলিভিশনের অভিনেতারাও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন।
তার পরিচালিত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে ‘উজান’। এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন সুপ্রিয়া দেবী, রূপা গাঙ্গুলি ও দোলন রায়। লাবণী সরকার ও ইন্দ্রাণী হালদার অভিনীত ‘কাঁচের পৃথিবী’ও তার অন্যতম জনপ্রিয় কাজ। এছাড়া তাপস পাল ও ইন্দ্রাণী হালদার অভিনীত ‘দেবর’ এবং রঞ্জিত মল্লিক, রিনা চৌধুরী ও চুমকি চৌধুরী অভিনীত ‘শ্রীমান ভূতনাথ’ তার পরিচালিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে পড়ে।
শুধু পরিচালক হিসেবেই নয়, চিত্রনাট্যকার হিসেবেও বাংলা চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন অমল রায় ঘটক। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও রূপা গাঙ্গুলি অভিনীত ‘মানসী’ ছবির চিত্রনাট্যের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। মুনমুন সেন, ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়, তাপস পাল, সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়, স্মিতা ও কালী বন্দ্যোপাধ্যায় অভিনীত ‘ব্যবধান’ ছবির চিত্রনাট্যও তার লেখা। ছবিটির ‘কত না ভাগ্যে আমার এ জীবন পুণ্য হল’ গানটি আশা ভোঁসলের কণ্ঠে শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
নব্বইয়ের দশকে পশ্চিমবঙ্গের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে নিজস্ব ধারার নির্মাতা হিসেবে অমল রায় ঘটক জায়গা করে নিয়েছিলেন। পরিচালনা ও চিত্রনাট্যের মাধ্যমে বাংলা সিনেমায় তিনি রেখে গেছেন স্বতন্ত্র কাজের স্বাক্ষর। তার মৃত্যুতে পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন